কেমুসাস’র আলোচনা সভা সিলেটে হযরত শাহজালালের (র.) আগমন ও ইসলাম প্রচার ছিলো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য রহমত স্বরূপ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual7 Ad Code

ডেস্ক নিউজঃ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (র.) এর ৭০৪তম ওফাত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘হযরত শাহজালাল (র.) এর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেন, হযরত মুহাম্মদ রাসুল (স.)-এর পর কোন নবী ও রাসুল আসবেন না। তখন নায়বে নবীরা দ্বীনের দাওয়াতি কাজ করেন। হযরত শাহজালাল (র.) একজন নায়বে নবী ছিলেন, ওলি ছিলেন। তিনি যদি সিলেট অঞ্চলে না আসতেন তবে এই অঞ্চল ইসলামের ছায়া থেকে বঞ্চিত হতো। সিলেটে তাঁর আগমন ও ইসলাম প্রচার ছিলো এই অঞ্চলের মানুষের জন্য রহমত স্বরূপ।

Manual5 Ad Code

গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং পাঠাগার সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ তাহেরের সঞ্চালনায় পরিচালিত আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমদাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক গবেষক আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে কবি কালাম আজাদ বলেন, হযরত শাহজালাল (র.)-এর যে ইতিহাস আমরা পাই তা শুধু আমাদের অঞ্চলে আসার পরের ইতিহাস। কিন্তু তারতো পূর্বের অনেক কথা আমাদের জানা নেই। হযরত শাহজালাল (র.) আমাদের জানা থেকে অনেক বিশাল ছিলেন।
মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে এডভোকেট এমদাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, হযরত শাহ জালাল (র.)-এর সাথে ইবনে বতুতার সিলেটে মোলাকাত হয়েছে। হযরত শাহজালাল (র.) আসার আগেও সিলেট অনেক মুসলমান এসেছিলেন। এখানে শায়েখ বুরহান উদ্দিন (র.) এর পরিবারের কথা উল্লেখযোগ্য। যেহেতু হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পর কোন নবী বা রাসুল আসবেন না তাই হযরত রাসুল (স.)-এর পর অসংখ্য ইসলাম প্রচারক বিশ্বব্যাপি চলে গিয়েছিলেন। তাদের কোন গ্রুপ সিলেটে এসেছিলেন হয়তো।

Manual3 Ad Code

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস বলেন, হযরত শাহজালাল (র.) একজন বড় মাপের ওলি ছিলেন। ওলির ব্যাপারে খুব সাবধানে অত্যান্ত হিসাব করে বলতে হবে। হযরত শাহজালাল (র.)-কে তারাই অনুভব করতে পারবেন, যারা তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করতে পারবেন। সিলেটের প্রতি আমার হৃদয়ের একটি টান রয়েছে, এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু বলেন, হযরত শাহজালাল (র.) সোহরাওয়ার্দী তরিকার অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ সাধক ছিলেন। তিনি তাঁর মিশনারী কাজে আসার পূর্বে প্রথমে বিভিন্ন সাধকের কাছে সাধনা করেছেন। বিশেষ করে তিনি সাধনা করেছেন শায়েখ সৈয়দ আহমদ কবির (র.), শায়েখ আবু সাইদ তিবরীজি (র.), শায়েখ শাহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দী (র.) এবং শায়েখ বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (র.) প্রমূখের কাছে। এই শায়েখদের সহবতে তিনি নিজেই কষ্টিপাথর হয়ে গিয়েছিলেন।

Manual7 Ad Code

ড. তুতিউর রহমান মূল প্রবন্ধে বলেন, হযরত শাহজালাল (র.) এই এলাকার শ্রেষ্ঠ ওলিদের অন্যতম। বৃহত্তর সিলেট তথা জালালাবাদে শুধু নয়, তিনি মুসলিম বাংলার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের নির্বাহী সদস্য গল্পকার সেলিম আউয়াল, নির্বাহী সদস্য জাহিদুর রহমান চৌধুরী, লেখক মাওলানা শামসির হারুনুর রশিদ, মাসিক শাহজালাল পত্রিকার সম্পাদক রুহুল ফারুক, বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ মোহাম্মদ তারেক। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code