কোটচাদপুর থেকে আম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ কোটচাদপুরে শহরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহতম আমের হাট। এখান থেকেই প্রতিদিন দেশীয় জাতের, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, আমরুপালি, বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার আম রফতানি করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবছর এখান থেকে দেশের বাইরেও আম রফতানির কথা বলছে ব্যবসায়ীরা। দুরদুরান্ত থেকে ব্যপারিরা আম কিনতে ছুটে আসে এ বাজারে।
দেশের অন্য স্থানের থেকে তুলনামুলক এখানে আমের দাম কম হওয়ায় ব্যবসায়ীদের এই বাজারেই আগ্রহী বেশি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি, আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে আমা চষিরা আরো বেশি লাভবান হত। ব্যবসায়ীরা আরো জানিয়েছেন, এ আম বাজারের বৈশিষ্ট হলো এখানকার আমে কোন ফরমালিন বা ক্ষতিকর ক্যামিকেল মেশানো হয় না। এখানে রয়েছে সর্বসময় প্রশাসনের তদারকি যে কারনে কোন প্রকার আমে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। আবার কোটচাদপুরের জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ি ও প্রশাসন তাদের সুনাম ধোরে রাখার জন্য রাসায়নিক কিছু দিতে নারাজ।
প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ, কোটচাদপুর, মহেশপুর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, চুয়াডাঙ্গার, জীবননগর, হাসাদহ, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা এলাকার আম ব্যবসায়ীরা এই বাজারে আম বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ছোট-বড় অন্তত ১০০ ট্রাক আম দেশের বিভিন ্নস্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব আম ঢাকা, বরিশাল, সিলেট, চ্রটগ্রাম,খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোলে যাচ্ছে।এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানী আমের জুস তৈরির জন্য এখান থেকে আম ক্রয় করে নিয়ে যায়।
কোটচাদপুর আম বাজারটি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার। এই বাজারে সকাল ৭টা থেকে রাত পর্যন্ত আম কেনা ও বিক্রি করা হয়। চলতি বছর এই বাজারে ল্যাংড়া ১ হাজার ৩শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা মন, হিমসাগর ১০০০ থেকে ১৩০০টাকা মন, বোম্বায় ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা,আমরুপালি ৯০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য জাতের আম ৭০০-১০০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কোটচাদপুরের আম বাজারে দেড় শতাধিক দোকান আছে। এছাড়াও এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২শ আম ব্যাবসায়ী আম ব্যবসার সাথে জড়িত।
বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়িরা বলছেন, কোটচাদপুর উপজেলা ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ একর জমির আমবাগান ক্রয় করেছেন। কাচা আম গাছ থেকে ভেঙে এ বাজারে আনছেন। এখানে আম পাকানোর জন্য কোন রাসায়নিক ব্যবহার করাহয় না। কোটচাদপুরের আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে যোগ করেন আম ব্যবসায়ীরা। এ পাইকারি হাটের বাজার টি ব্যাপক ভাবে জমে উঠেছে।
কোটচাদপুর আম ব্যবসায়ীরা বলছেন আমের ব্যবসা ২-৩ মাস থাকে। এ অঞ্চলের আমের সাইজ ও রং ভাল। এই বাজারে অনেক আম আসে। যদি এখানে আম সংরক্ষনের ব্যবস্থা সরকার করে তাহলে কৃষক আরো বেশি লাভবান হত। এছাড়া এখান থেকে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থানে আম সরবরাহ করা যেতো। যেহেতু এ এলাকার মানুষ বানিজ্যিক ভিত্তিতে আম বাগান করে থাকে। আম বাগানের মালিকরা বলছেন এবছর ঝড় বৃষ্টি না হবার কারনে আমে কোন পোকা হয়নি ও রং ভাল হয়েছে। সে কারনে আমের বাজারে ব্যবসায়িরা আম ক্রয় করতে কোন দ্বিধাবোধ করছে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code