কোরআনি যে ৩ দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

ইসলামিক ডেস্কঃ 

 

পবিত্র কোরআনুল কারিমে অনেক দোয়া বর্ণিত হয়েছে। এসব দোয়ার মধ্যে বিশেষ ৩টি দোয়া রয়েছে, যেগুলো আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন বলে- তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। আর এই দোয়াগুলোর প্রত্যেকটিই জীবনঘনিষ্ঠ। এর প্রথম দোয়াটি রোগমুক্তির জন্য, দ্বিতীয়টি বিপদমুক্তির জন্য; আর তৃতীয় দোয়াটি সন্তান লাভের জন্য।

এক. রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

 

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত প্রথম দোয়াটি হলো- আল্লাহর নবী আইয়ুব আলাইহিস সালামের। তার দোয়াটি ছিলো-

Manual1 Ad Code

أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ : আন্নী মাসসানিয়াজ্জুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমিন।

অর্থ: (হে আমার প্রতিপালক!) আমাকে দুঃখ-ক্লেশ (ব্যাধি) স্পর্শ করেছে, আর তুমি তো (দয়ালুদের মধ্যে) শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৮৩)

 

এই দোয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তার পরিবরাবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সঙ্গে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা ইবাদতকারীদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৮৪)

দুই. বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া

দ্বিতীয় দোয়াটি হলো- আল্লাহর নবী হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের। ওই দোয়াটি হলো-

لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।

Manual1 Ad Code

অর্থ : তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গোনাহগার। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৮৭)

এই দোয়া বর্ণনার পর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার (সেই) আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনিভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৮৮)

Manual8 Ad Code

তিন. সন্তান লাভের দোয়া

তৃতীয় দোয়াটি হলো- হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের। বরকতময় এই দোয়ার দুইটি অংশ পবিত্র কোরআনের ভিন্ন দুই জায়গায় বর্ণিত হয়েছে।

Manual6 Ad Code

ক. رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ

উচ্চারণ: রাব্বি লা তাযারনি ফারদান ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসিন।
 
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখো না। তুমি তো উত্তম ওয়ারিস। ( সুরা আম্বিয়া : ৮৯)

এই দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম, তাকে দান করেছিলাম ইয়াহইয়া এবং তার জন্যে তার স্ত্রীকে প্রসবযোগ্য করেছিলাম।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৯০)

খ. একই বিষয়ে তিনি আরেকটি দোয়া করেছিলেন। সেই দোয়ার পর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতারা এসে তাকে দোয়া কবুলের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। দোয়াটি হলো-

رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاء

উচ্চারণ: রাব্বী হাবলি মিল্লাদুনকা যুর্যিইয়াতান ত্বায়্যিবাতান ইন্নাকা সামিউদ্দোয়া।

অর্থ: হে আমার পালকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পূত-পবিত্র সন্তান দান করো, নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৮)

দোয়ার উপরোক্ত ভাষ্যগুলোর গ্রহণযোগ্যতা যেহেতু পরীক্ষিত, সুতরাং রোগ মু্ক্তি, বিপদমুক্তি কিংবা সন্তান লাভের জন্য এসব দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।  আল্লাহ তাআলা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code