

ধর্ম: মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই মানব জাতির জীবন বিধান পবিত্র আল কুরআনে সময় অপচয় ও অনর্থক কাজে ব্যয় করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি ধারণা করে নিয়েছে তাদের অনর্থক সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না? (সূরা আল-মুমিনুন : ১১৫)।
ইসলামে মানুষের অনর্থক কাজে সময় ব্যয় করার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কাজেই যখনই অবসর পাও ইবাদতের কঠোর শ্রমে লেগে যাও। এবং নিজের রবের প্রতি মনোযোগ দাও।’ (সূরা ইনশিরাহ : ৭-৮)। সুতরাং মানুষের জীবনে প্রতিটি মুহূর্ত অতীব দামি। প্রবাদ রয়েছে, ‘সময় এবং নদীর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না’। সময় নদীর স্রোতের মতো প্রবহমাণ। একই জলপ্রবাহে যেমন দুবার ডুব দেওয়া যায় না, তেমনি একই সময়কে দুবার পাওয়া যায় না।
পৃথিবীর কোনো শক্তিই সময়ের গতিশীলতাকে রোধ করতে পারে না। সময় কখনো থামতে জানে না, সে আপন গতিতে সদা চলমান। সময় কখনো ক্লান্ত হয় না, তাই তার বিশ্রামেরও প্রয়োজন হয় না। সময়ের গুরুত্ব বোঝাতে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র আল কুরআনে সময়ের শপথ করে বলেন, ‘সময়ের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সূরা আসর-১-৩)। সময়ের যথাযথ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
একদা রাসূলুল্লাহ (সা.)কে প্রশ্ন করা হলো, সৌভাগ্যবান কারা? তিনি বললেন, সৌভাগ্যবান তারা, যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছে এবং তা নেক আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করেছে। অতঃপর আবার জিজ্ঞেস করা হলো, দুর্ভাগা কারা? তিনি বললেন, দুর্ভাগা তারা যারা দীর্ঘায়ু পেয়েছে এবং তা বদ আমলে কাটিয়েছে বা আমলবিহীন অতিবাহিত করেছে। (তিরমিজি-২৩২৯, মুসনাদে আহমাদ-১৭৭৩৪)।