কোরআন তেলাওয়াতের ১০ ফজিলত

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual8 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: মহাগ্ৰন্থ আল কোরআন এক মহান পরশপাথর। এর সংস্পর্শ সবাইকে ধন্য করে। চাই তা অধিক কোরআন তেলাওয়াত, হেফজ বা তাফসির জানার মাধ্যমে হোক। কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অনেক ফজিলত রয়েছে। এখানে ১০টি ফজিলত তুলে ধরা হলো-

১. কোরআন তেলাওয়াতকারীদের আল্লাহ তায়ালা পরিপূর্ণ প্রতিদান দিবেন এবং তাদের প্রতি অনুগ্ৰহ বৃদ্ধি করবেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাঁরা এমন ব্যবসার আশাবাদী, যাতে কখনও লোকসান হয় না। যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী। -(সূরা ফাত্বির, আয়াত: ২৯-৩০)

২. আল্লাহ তায়ালা কোরআন তেলাওয়াতকারীদের মর্যাদা বহুগুনে বৃদ্ধি করে দেবেন।

হাদিস শরিফে এরশাদ হচ্ছে , আমির ইবনে ওয়াসিলা আবূ তুফায়েল রা. থেকে বর্ণিত যে, নাফে’ ইবন ‘আবদুল হারিস রা. “উসফান” নামক স্থানে ওমর ইবনে খাত্তাব রা. এর সঙ্গে মিলিত হন। ওমর রা. তাঁকে মক্কার গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন।

Manual8 Ad Code

ওমর রা. বললেন, গ্রামবাসী বেদুঈনদের জন্য তুমি কাকে স্থলাভিষিক্ত (খলিফা বানিয়েছ) করেছ? তিনি বলেন, আমি তাদের উপর ইবনে আবযা রা.-কে খলিফা বানিয়েছি।

ওমর রা. বললেন ইবনে আবযা কে? তিনি বললেন, সে আমাদের একজন আযাদকৃত গোলাম। ওমর রা. বললেন, তুমি লোকদের উপর গোলামকে খলিফা বানিয়েছ?

তিনি বললেন সে তো মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতকারী, ইলমে ফারায়েজ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ‘আলিম এবং কাযী। ওমর রা. বললেন তুমি কি জান না যে, তোমাদের নবী সা. বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ এ কিতাবের মাধ্যমে কতক গোত্রকে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবেন আর কতককে এর দ্বারা অবনমিত করবেন? (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৮)

৩. যারা কোরআন শিখে ও শিক্ষা দেয় সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ তারা।

Manual3 Ad Code

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, আলী ইবনে আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সা. বলেছেন তোমাদের মাঝে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কোরআন শিখে এবং তা শিখায়। (তিরমিজি, হাদিস: ২৯০৯)

৪. প্রতি হরফ তিলাওয়াত করলে ১০ নেকি।

হাদিসে এরশাদ হচ্ছে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করবে সে একটি নেকি লাভ করবে। আর প্রতিটি নেকিকেই ১০ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম মিলে একটি হয়ফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, এবং মীম আরেকটি হরফ। (তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)

৫. কোরআন পাঠকারীর দৃষ্টান্ত মিষ্টি কমলার মত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, আবু মূসা আশআরি রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন কোরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত (মিষ্টি) কমলার ন্যায়, যার ঘ্রাণও উত্তম স্বাদও উত্তম। যে মুমিন কোরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায়, যার কোন ঘ্রাণ নেই তবে এর স্বাদ আছে। আর যে মুনাফিক কোরআন পাঠ করে তার দৃটান্ত রায়হানা (ফুলের) ন্যায় যার ঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কোরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হানযালা (মাকাল) ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নেই, স্বাদও তিক্ত। (বুখারি, হাদিস: ৫৪২৭)

৬. মৃত্যুর পরও কোরআন তেলাওয়াতকারীর লাশের মর্যাদা অনেক বেশি।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ‌ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহীদদের দুই’দুই’ জনকে একই কাপড়ে একত্র করতেন। এরপর জিজ্ঞাসা করতেন, তাদের উভয়ের মধ্যে কে কোরআন সম্পর্কে অধিক জানতো? দু’জনের মধ্যে একজনের দিকে ইশারা করা হলে তাকে কবরে আগে রাখতেন এবং বলতেন, আমি কিয়ামতের দিন এদের ব্যাপারে সাক্ষী হবো। তিনি রক্তমাখা অবস্থায় তাদের দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাদের গোসল দেওয়া হয়নি এবং তাদের (জানাযার) নামাজও আদায় করা হয়নি। (বুখারি, হাদিস: ১৩৪৩)

Manual2 Ad Code

৭. কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিবার ও কাছের মানুষ।

Manual8 Ad Code

হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে, আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কতক লোক আল্লাহর পরিবার-পরিজন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ! তারা কারা? তিনি বললেন কোরআন তিলাওয়াতকারীরাই আল্লাহর পরিবার-পরিজন এবং তার বিশেষ বান্দা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৫)

৮. কোরআন তেলাওয়াতকারীকে (হাফেজে কোরআনকে) সম্মান করা আল্লাহ তায়ালাকে সম্মান করার সমান।

হাদিসে এসেছে, আবু মূসা আশআরী রা.থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, (৩ব্যক্তি) ক. বয়স্ক মুসলমান, খ. কোরআনের হাফেজ যে এর অর্থের মধ্যে কোন রকম কমবেশী করে না এবং গ. ন্যায়-পরায়ণ বাদশার সম্মান করা, মহান আল্লাহকে সম্মান করার ন্যায়। (আবু দাউদ, হাদীস : ৪৮৪৩)

৯. কোরআন তেলাওয়াতকারীকে (হাফেজে কোরআনকে) কোরআনের আয়াতের সংখ্যার সমপরিমাণ তলা বিশিষ্ট প্রাসাদ দেওয়া হবে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন কিয়ামতের দিন কোরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি তা পাঠ করতে থাক এবং উপরে চড়তে (উঠতে) থাক। তুমি তাকে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে থাক, যেভাবে তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার সর্বশেষ বসবাসের স্থান (জান্নাত) সেখানেই হবে, যেখানে তোমার কোরআনের আয়াত শেষ হবে। (আবু দাউদ, হাদীস : ১৪৬৪)

১০. কোরআন এমন সুপারিশকারী যার সুপারিশ (তেলাওয়াতকারীর পক্ষে) কবুল করা হবে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে , জুবায়েদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ রা. বলেছেন, কোরআন এমন সুপারিশকারী যার সুপারিশ (তেলাওয়াতকারীর পক্ষে) কবুল করা হবে। এমন বিতর্ককারী যার বিতর্ক (তেলাওয়াতকারীর পক্ষে) গ্ৰহণ করা হবে। অতএব যে কোরআনকে সামনে রাখবে (তেলাওয়াত করবে ও তদানুযায়ী আমল করবে) কোরআন তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর যে পিছনে রাখবে (তেলাওয়াত করবে না ও তদানুযায়ী আমল করবে না ) কোরআন তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। -(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ১২৪)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code