ক্যানেলে কৃত্রিম বাঁশের বাঁধ : ভেঙে দিলেন ইউএনও

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) :
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাসিত হওয়া ক্যানেলে কৃত্রিমভাবে বাঁশের বাঁধ (হোকোশ) ভেঙে দিলেন ইউএনও আয়েশা সিদ্দীকা। জানাযায় পানি আটকে রাখার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর পরেই মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে তিনি সাইতাড়া ইউনিয়নের খোচনাগ্রামের বানপাড়ার সব চেয়ে বড় বাঁশের বাঁধটি (হোকোশ) ভেঙে দেয়। এর পাশাপাশি সেই বাঁধের সামনে ও পেছনে ছোট বড় ১১টি বাঁশের বাঁধ তিন দিনের মধ্যে তুলে দেওয়ার জন্য সাইতাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন শাহ্ কে নির্দেশ দেন।

Manual5 Ad Code

এ আগে বড় বাঁশের বাঁধের মালিক গোলাপ হোসেন (৩২) কে এরকম কাজ যাতে আর না হয় সেজন্য তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খানসামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দীন লুহিন শাহ্ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজসেবক সন্তোষ কুমার রায়।

জানাগেছে কৃত্রিম বাঁশের বাঁধের ফলে চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলার প্রায় দুই হাজার হেক্টর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত ৫/৭ বছর ধরে এ কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণের ফলে অল্প বৃষ্টিতেই আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় দু’উপজেলার প্রায় ১২-১৪ হাজার কৃষক বছরে এক বার শুধু বোরো ধান চাষ করে। ফলে জমি থাকা সত্বেও অনেকে আমন ধান আবাদ করতে না পেরে কষ্টে জীবনযাপন করছে।

Manual3 Ad Code

এই পানির ক্যানেলটি উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের চান্দেরদহ কালভার্ট দিয়ে ইছামতি নদীর পানি মারগাঁও গ্রামের চাতারা দোলা ও কুমড়িয়া গ্রামের পুকরের দোলা দিয়ে প্রবেশ করে তা বকশিকুড়া দোলায় (কান্দর) ও পরে তা ভাবকীর শালমারা দোলা দিয়ে দুটি কার্লভার্ট হয়ে চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রাণীরবন্দর-ভূষিরবন্দর মহাসড়কের দুই পাশের দোলা দিয়ে তা নশরতপুর গ্রাম হয়ে ফকিরপাড়া দোলা দিয়ে ফকিরপাড়া ক্যানেলে এসে পড়ে। এই ক্যানেলটি সাইতাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে চিরিরবন্দর সদর হয়ে কারেন্টহাট নামক স্থানে আত্রাই নদীতে পৌঁছে।

Manual1 Ad Code

চিরিরবন্দর উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, আমার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে বছরে একবারে বোরো ধান ফলাই। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমাট থাকার কারনে আমন ধান লাগালেও তা বেশিরভাগ সময় ডুবে থাকে। এতে অনেকবার আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাৎক্ষনিক ভাবে ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আমরা এই এলাকার এলাকাবাসী খুশী হয়েছি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে সরেজমিনে গিয়ে সব বাঁধ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code