

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) :
ওরা বিভিন্ন কলেজ,ইউনির্ভাসিটি’েত পড়–য়া ছাত্র। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারী বিধিনিষেধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মানুষজন গৃহবন্দি! এ বন্দি দশা আজ ১মাস পেরিয়েছে। নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত কারোরই হাতে কর্ম নেই, ফলে ঘরে ঘরে ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। মানুষের এসব আর্তনাত কাছ থেকে দেখলে যে কেউই নিজেকে সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এদের বেলায় তাই ঘটেছে। মানিকছড়ির প্রত্যন্ত জনপদে লোকলজ্জায় নিজেকে আড়াঁল করে রাখা ওইসব ক্ষুধার্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ-সামগ্রী নিয়ে হাজির উপজেলার চার শিক্ষার্থী। তাদের এই অনন্য দৃষ্টান্ত অনুকরণীয় বটে।
বৈশ্বিক মহামারি ‘করোনা ভাইরাস’ প্রতিরোধে দেশব্যাপি চলছে ঘোষিত ও অঘোষিত লকডাউন আজ ১ মাস পেরিয়েছে। ফলে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্রই মানুষজন গৃহেবন্দি! সমাজের হত-দরিদ্র, অতি-দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের সকলেই বাসাবাড়িতে খাদ্যসংকটসহ দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ সরকারের বিভিন্ন বরাদ্দে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখলেও জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রস্তুতে কিছুটা স্বজনপ্রীতি করায় আজও অনেক পরিবাওে ত্রান-সামগ্রী পৌছেনি। ফলে তারা খেয়ে না খেয়ে দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছে। সমাজের বাস্তব এমন ঘটনায় মানিকছড়ির ছাত্র-সমাজরা পৃথক পৃথক ভাবে স্ব-উদ্যোগে অসহায় ও ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে নানাভাবে। কেউ দাঁড়িয়েছে‘মানবিক’মানিকছড়ি’র ব্যানাবে, কেউ ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে, আবার কেউ স্ব-উদ্যোগে। মানিকছড়ি গিরিমৈত্রী ডিগ্রি কলেজে পড়–য়া মোস্তফা আবির, মো. শরিফ, মো. জামাল ও হাবিব। ওরা ৪ বন্ধু মিলে নিজস্ব অর্থায়নে ‘করোনা’য় মানুষজন গৃহে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে উপজেলার শান্তিনগর, সাপুরিয়াপাড়া,রহমাননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ২৮পরিবারে ত্রাণ-সামগ্রী পৌছে দিয়েছে। তারা অন্তত ১শত পরিবারে সাধ্যানুযায়ী ত্রাণ-সামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মো. মোস্তফা আবির বলেন, আমরা ছাত্র, নিজের আেয়-রোজগার নেই। কিন্তু মানবতার দুঃখ,ক্ষুধার্তের আর্তনাত আমাদেও বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তাই ভাবছি, কলেজ খোলা থাকলে প্রতিদিন যেভাবে পকেট-খরচ করতাম। অন্তত এখন মানুষের দূর্ভোগে সে টাকার সাথে আরো কিছু যোগান দিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াই। কারণ মানুষ মানুষের জন্য। আমরা নিজেরা ত্রাণ-সামগ্রীর পেকেট কাঁধে নিয়ে ক্ষুধার্তের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি।