

অসীম বিকাশ বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
বর্ণাঢ্য উৎসবের মহাপূণ্যানুষ্ঠান দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম একটি বড় ও শ্রেষ্ঠ দানোৎসব। যে দান উৎসবের জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগণ।কঠিন চীবর দানকে ঘিরে প্রতিটি বিহার প্যাগোডা ও বৌদ্ধ পল্লীতে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে সবাই। তারই ধারাবাহিকতায়
এক বর্ণাঢ্য আয়োজন
আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত
মহামুনি পাহাড়তলীস্থ “আর্য্য সত্য প্রজ্ঞা বিমুক্তি বিহারে” দশম (১০ম) বারের মত পরম পূজনীয় আর্য্যশ্রাবক ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে)মহোদয় ও স্বশিষ্যের উপস্থিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দাননুষ্ঠান । এই দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটবে।
প্রথম দিনের আয়োজন: ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার
উৎসবের প্রথম দিন শুরু হবে সকাল ০৭.৩০ টায় পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের উপস্থিতিতে পঞ্চশীল গ্রহন ও চীবর সেলাই এর উদ্দেশ্যে সাদা বস্ত্র,রং, সুঁই -সুতা সহ চীবরের বিবিধ উপকরণ দান এবং সকাল ০৯.০০ টায় পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের পিন্ডাচরণ । বিকেল ০৩.০০ টায় ঐতিহ্যবাহী মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে অবস্থিত “আর্য্য সত্য প্রজ্ঞা বিমুক্তি বিহার” এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত, আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ, বিশ্বমৈত্রী প্রদীপ, বুদ্ধ শাসনের আলোকবর্তিকা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, মহান মানবতাবাদী পুণ্যপুরুষ, দেব-মানব পূজ্য, আর্য্যশ্রাবক,প্রতিসম্ভিদাসহ ষড়াভিজ্ঞ অর্হৎ, “অনুবুদ্ধ” পরম পূজনীয় ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয় সহ তার শিষ্যসংঘ নিয়ে বিহারে আগমন করবেন এবং পুষ্প দিয়ে বরণ করে নেওয়া হবে। এরপর বিকেল ৫ টায় অনুষ্ঠিত হবে সেলাইকৃত চীবর রং করণের কার্যক্রম । সাদা কাপড় থেকে সুঁই-সুতার সাহায্যে এই চীবর তৈরি করা হবে। এটি এই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রতি গৃহীদের গভীর শ্রদ্ধা ও দানশীলতা প্রকাশ করে। সন্ধ্যা ৭টায় মহামুনি সেবক সংঘ ও গ্রামবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এক মনোজ্ঞ বৌদ্ধ কীর্তন।
দ্বিতীয় দিনের আয়োজন: ৩১ অক্টোবর, শুক্রবার
উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুরু হবে সকাল ৭:৩০ টায়, পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের পিন্ডাচরণের মাধ্যমে। এরপর সকাল ৮টায় বাদ্যযন্ত্রসহকারে সেলাই করা চীবর নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণ করা হবে। দুপুর ১২:৩০ টায় পরম পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভান্তে মহোদয় সহ তাঁর শিষ্যদের নিয়ে মঞ্চে আসন গ্রহণ করবেন এবং তাঁদেরকে পুষ্প দিয়ে বরণ ও পূজা করা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলাচরণ ও পঞ্চশীল প্রার্থনা।
দুপুর ১:০১ মিনিটে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয় এর একক সদ্ধর্ম দেশনা শুরু হবে। তাঁর মূল্যবান ধর্মদেশনা শুনতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত ও পুণ্যার্থী সমবেত হবেন।
বিকেল ৩:০১ মিনিটে কঠিন চীবর উৎসর্গ, বুদ্ধমূর্তি দান, কল্পতরু দান, অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান এবং জল ঢেলে পুণ্যানুমোদন। এরপরে ,আতশ বাজি ও ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘঠবে।
“আর্য্য সত্য প্রজ্ঞা বিমুক্তি বিহার” এর এই পবিত্র আয়োজনে সকল ধর্মপ্রাণ নর-নারীকে উপস্থিত থেকে উক্ত অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য বিনীতভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে । এটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং শান্তি, সম্প্রীতি এবং দানশীলতার এক অনন্য উদাহরণ, যা সকলের মধ্যে একাত্মতা ও আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি করবে।