দাগনভূঞায় সোনালি ধানে ভরেছে কৃষকের মন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

 

দাগনভূঞা (ফেনী):
বাতাসে এখন শীতের গন্ধ। মাঠের পর মাঠ জোড়া সবুজ ধানের শীষগুলোতেও এখন সোনা রঙের হাসি। শেষ অগ্রহায়ণের সোনালি রোদে সেই হাসি আরও ঝলমল করে ওঠছে। অনেক মাঠেই কাস্তে নিয়ে ধান কাটার উৎসবে নেমে পড়েছেন কৃষক। ফুরফুরে মনে ফসল উঠানে তুলছেন তাঁরা। আবহাওয়া ও পরিবেশ প্রতিকূলে থাকার সর্ত্বেও এ বছর যে ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে।

Manual7 Ad Code

দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর,নয়নপুর, জগতপুর, সিন্ধুর পুর, রাজাপুর , রামনগর, মাতুভূঞাঁ ও জয়লস্কর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশা মাখা ভোর থেকে দলবেধে আইল ধরে কৃষক ছুটছেন জমিতে। কয়েকটি ফসলের মাঠে দলবেধেই কাস্তে হাতে নেমে পড়ছেন তাঁরা। ধান কেটে আঁটি বেঁধে রাখছনে খেতের মাঝেই। বিকেল থেকেই সেই আঁটি বোঝা বেধেঁ মাথায় করে বাড়ি নেওয়া শুরু।

Manual6 Ad Code

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ হারুন-অর-রশিদ জানান,৮ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে এ বছর আমন চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিআর-১১,২২,২৩, ব্রি ধান-৪৪,৪৯, ৫১, ৫২, ৬২,৭২, ৭৩, ৭৬,৮০,৮৭ বিনা ধান-৭,১৭ সহ স্থানীয় কিছু বাজাল, কালো জিরা জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ২৫টি ব্লকের মধ্যে সবগুলো ব্লকে ধান কাটা মাত্র শুরু হয়েছে।

Manual4 Ad Code

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ফসল অনেকটাই ভালো। পোকামাকড় ও রোগবালাই আক্রমণ ছিল কম। তারপর কোন সমস্যা দেখা গেলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কে অবহিত করা হতো। উপ সহকারী কৃষি অফিসার সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে দেয়। যে জন্য উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষিতে বিল্পব ঘটে।

Manual4 Ad Code

রামনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এবার ২ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৫২ জাতের ধান লাগিয়ে ছিলাম। ফলন ভালো হয়েছে। চলতি বছর ধানের ছড়া বের হওয়ার মুখে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানে। এতে ফসলহানির আশঙ্কাও করেছিলাম। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও ধানের বাম্পার ফলন দেখে খুশি আছি।

ভালো ধান হওয়ায় ভীষণ খুশি পূর্ব চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ৩ বিঘা জমিতে জিংক সমৃদ্ধ জাতের ব্রি ধান ৬২ চাষ করেছি। ধানের ফলন বেশ ভালো। ধান দেখে কাটতে ভালো লাগছে। তিনি আরও জানায়, কৃষি বিভাগ ধানের জমিতে নমুনা শস্য কর্তন করেছিলেন ২০ বর্গমিটারে ধান পাইছে ৯.৭৫৫ কেজি (কাঁচা), হেক্টরে না কি ৪.৪২মে.টন (শুকনা) ধান হবে। মাত্র ১০৪ দিনে তো ভালো ফলন পাবো। তারপর এ জমিতে সরিষা চাষ করবো ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রাফিউল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ও ফসলের লক্ষমাত্রা ছাড়ানোর জন্য আমরা কৃষকদের কে নতুন নতুন জাতের ধান চাষ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি । কৃষি বান্ধব সরকার কৃষি উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব-সময় সার্বিক সহযোগিতা করছি। এবার সরকারী খাদ্য গুদাম ৮৮৫ মেট্টিকটন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং আমনের উৎপাদক কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এসব ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code