খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual1 Ad Code

ফিচার ডেস্ক: চলতি ডিসেম্বরের থেকে তারিখ রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে ২৮ লাখ মানুষ।

Manual6 Ad Code

 

২০২২ সালের হিসাবে দারিদ্র্য বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে এই করোনা মহামারি। একই বছর বৈশ্বিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বৈশ্বিক মন্দা দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। শুধু বৈশ্বিক মন্দার কারণে বাড়তি ৫০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করছেন অনেকে। এমন নিষেধাজ্ঞা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সর্বাবস্থায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে, তা আলোচনা করাই নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

 

Manual4 Ad Code

খাদ্য নিরাপত্তার সংজ্ঞা অনুযায়ী তখনই খাদ্য নিরাপত্তা বিরাজমান, যখন সবার একটি কর্মক্ষম, স্বাস্থ্যকর উৎপাদনমুখী জীবনযাপনের জন্য সব সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের লভ্যতা প্রাপ্তির ক্ষমতা বিদ্যমান থাকে। বাংলাদেশের জাতীয় খাদ্যনীতি ২০০৬ বলা হয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম একটি উপাদান হলো জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যের লভ্যতা (availability of food) অপর অপরিহার্য উপাদান হলো ব্যক্তি পরিবার পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যপ্রাপ্তির ক্ষমতা (access to food) তৃতীয় উপাদন হচ্ছে খাদ্যের জৈবিক ব্যবহার (utilisation of food)

 

Manual6 Ad Code

দেশে খাদ্য লভ্যতার মূল উৎস হলো কৃষি খাতে (শস্য উপখাত, মৎস্য প্রাণিসম্পদ উপখাত এবং বন উপখাত নিয়ে কৃষি খাত গঠিত) উৎপাদিত খাদ্যপণ্য। বিআইডিএসএর উপর্যুক্ত সম্মেলনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ গঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সাইক্লোনঝড়ের পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মতো বাংলাদেশের কৃষি খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। হ্রাস পাচ্ছে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হার। ২০০৯১০ অর্থবছরে কৃষি খাতের .৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে পরবর্তী এক দশকে গড়ে . শতাংশে দাঁড়ায় (অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা ২০১৯২০) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ বলা হয়েছে, ‘২০২০২১ অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল .১৭ শতাংশ, যা ২০২১২২ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে .০৫ শতাংশে। সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২২২৩ অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে .৬১ শতাংশে।

Manual1 Ad Code

কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাসের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শস্য উপখাতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল এবং আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য ধান তথা চাল এবং দ্বিতীয় খাদ্যশস্য গমের ওপর। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মোতাবেক ২০১৯২০ থেকে ২০২১২২ অর্থবছর পর্যন্ত চাল উৎপাদনের গড় প্রবৃদ্ধি হার ছিল শতাংশ। চলতি অর্থবছরে (২০২৩২৪) দেশে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হার সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো শতাংশ বা এর আশপাশে থাকবে বলেই ধারণা করা যায়। এদিকে ২০২০ ২০২১ সালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে .৩৭ . শতাংশ (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২ ২০২৩) এর অর্থ দাঁড়ায়, চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। এতে চাহিদার তুলনায় চালের ঘাটতি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code