খালিয়াজুরীতে ৬২ লাখ টাকার সড়ক;উদ্বোধনের আগেই ধসে গেছে।

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

অমৃত চন্দ্র দাস, খালিয়াজুরী ( নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
প্রতি বর্ষায় যে রাস্তা দিয়ে হাঁটুসমান কাদা ও বাঁশের সাকো ডিঙিয়ে আসা-যাওয়া করতে হতো স্কুল কলেজ পড়ুয়া শতশত ছাত্রছাত্রী ও গ্রামবাসী, সে রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ ঘুচে যাওয়ার আশা করেছিলেন গ্রামবাসী। তবে তাদের সে আশার গুড়ে বালি পড়েছে; উদ্বোধনের আগেই রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় ধস দেখা দেওয়ায় আবারও তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরার শঙ্কা প্রকাশ করছে গ্রামবাসী।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের বানিয়াহাটি এলাকায় ৬২ লাখ টাকায় নির্মিত রড সিমেন্ট কংক্রিটের ( আার, সিসি) সড়কটি নির্মানের এক মাস না যেতেই ১ম দফায় এর পর কয়েক দফায় বৃষ্টিতে ধসে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধিনে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে হাওরাঞ্চলের বন্যা ব্যাবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন (হেমলিপ) প্রকল্পের অর্থায়নে সড়কটি নির্মিত হয়েছে। এ তথ্যটি জানিয়েছেন খালিয়াজুরী এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইউনূস আলী।
তিনি আরো জানান, ওই সড়ক নির্মাণ কাজের নাম দেওয়া হয়েছে খালিয়াজুরী গ্রোথ সেন্টার (জিসি) কৃষ্ণপুর জিসি ভায়া বানিয়াহাটি রাস্তা পাকাকরণ। সংশোধিত এবং প্রস্তাবিত প্রাক্কালন অনুযায়ি সড়কটি নির্মিত হয়েছে ৩৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য,উপরাংশে ১৪ ফুট প্রস্থের । এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। চুক্তি অনুযায়ি কাজটি শেষ করার তারিখ ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর। কাজটির ঠিকাদার নেত্রকোনার মদন উপজেলার সারোয়ার জাহান।
স্থানীয়রা জানান, কাগজে-কলমে ঠিকাদার সারোয়ার জাহান হলেও কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন খালিয়াজুরী উপজেলার লেপসিয়া গ্রামের শহীদুল ইসলাম নামের একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা। তিনি পেশায় পাথর ও বালু ব্যাবসায়ি। তিনি সড়কটির নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করলেও সংশ্লিষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠান এলজিইডি কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
বানিয়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও খালিয়াজুরী উন্নয়নে নাগরিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক স্বাগত সরকার শুভ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ওই সড়কটি নির্মাণে ভরাট করা মাটি ভালো ভাবে আঁটসাঁট (কমপেকশন) না করেই সিসি ব্লক বসানো হয়েছে। ব্লকগুলো তৈরীতেও সিঙ্গেলসের পরিবর্তে বেশির ভাগেই দেওয়া হয়েছে মোটা বালু, ভূতু ও মরা পাথর। এসব ব্লক বসানোর সময় একটির সঙ্গে আরেকটি সংযুক্তও করা হয়নি সঠিক নিয়মে। তাই সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনের সামন্য বৃষ্টিতে সড়কটির অধিকাংশ স্থান ধসে পড়েছে।
খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি একই গ্রামের নিহারেন্দু দেব রায় তপু বলেন, নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারণে শুধু এখন নয় ইতিপূর্বে আরো এক বার ধসে ছিল সড়কটি। পরে কোন রকমে ধামাচাপা দিয়ে কিছু অংশের কাজ বাকি রেখেই সড়ক এলাকা ত্যাগ করেন ঠিকাদার। এসব বিষয়ে একাধিক বার এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা রহস্যজনক কারণে অনিয়ম রুখতে তেমন কোন পদক্ষেপ নেননি।
ঠিকাদার সারোয়ার জাহানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।
তবে, কাজটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত শহীদুল ইসলাম বলেন, নির্মিত স্থানে গভীরতা বেশি হওয়ায় সড়কটিতে বরবার ধস নামছে।
বিষয়টিতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইউনূস আলী মুখস্তের মতো বলেন, কাজটি নির্মাণে অনিয়ম হয়নি। তবে পুরোপুরি দ্রুতই কাজটি শেষ করে পুরো টাকা ঠিকাদার নিবেন।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code