খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতই থাকছে

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual2 Ad Code

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত থাকছে। একই সঙ্গে তাঁর জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি পেয়েছে।

আজ সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। পক্ষগুলোকে আপিলের সংক্ষিপ্ত সার জমা দিতে সময় বেঁধে দিয়ে আদালত আগামী ৮ মে আপিল শুনানির জন্য দিন রেখেছেন।

Manual8 Ad Code

আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত হওয়ায় এবং আরও কিছু মামলায় তাঁর জামিন নেওয়ার প্রয়োজন থাকায় তিনি এখনই কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।

খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে পক্ষগুলোর করা পৃথক আবেদনের ওপর গতকাল রোববার শুনানি শেষ হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ আদেশের জন্য দিন রেখেছিলেন।

Manual1 Ad Code

ওই মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন বিচারিক আদালত। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। রায়ের পর আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে ১২ মার্চ হাইকোর্ট চারটি দিক বিবেচনায় তাঁকে চার মাসের জামিন দেন।

Manual6 Ad Code

এই জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন। অন্যদিকে, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা সেদিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে। আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। এসব আবেদন গতকাল রোববার শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিতে খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত আছে, স্বল্প মেয়াদে সাজা হলে দ্রুত আপিল শুনানি করতে হবে। এই নজির তুলে ধরা হলেও হাইকোর্টের আদেশে এর প্রতিফলন হয়নি, যা আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। হাইকোর্টের আদেশে এসেছে উনি (খালেদা জিয়া) জামিনে ছিলেন। কিন্তু তিনি জামিনের অপব্যবহার করেছেন কি না, তা দেখার বিষয়। বিচারিক আদালতের অনুমতি না নিয়ে এবং অবহিত না করেই চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া দেশের বাইরে যান—বিচারিক আদালতের আদেশনামায় এর বিস্তারিত এসেছে। এর থেকে বড় অপব্যবহার কী হতে পারে? আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়ার চেয়ে বড় অডাসিটি কী হতে পারে?

স্বাস্থ্যগত দিকের যুক্তি বিষয়ে খুরশীদ আলম খান বলেন, এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজ বা সনদও দেওয়া হয়নি। বয়স্ক ও নারী বিবেচনায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছেন। একই কারণে দুবার সুবিধা পেতে পারেন না।

Manual6 Ad Code

ধারাবাহিক ঘটনা তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিচার বিলম্বিত করতে তারা (খালেদাপক্ষ) এমন কোনো পন্থা নেই যে নেয়নি। এখানে পাঁচ বছর সাজা হয়েছে, পাঁচ বছরেও আপিল শুনানি হবে না, এটা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, একজন আসামিকে কতবার সুবিধা দেওয়া হবে? খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে, অথচ তিনি মিটিং করেছেন, সমাবেশ করেছেন ও বিদেশ যাচ্ছেন। যদি জামিন দেওয়া হয়, তাহলে আপিল শুনানি অনিশ্চিত হয়ে যাবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘হাইকোর্ট পেপারবুক তৈরি করতে চার মাস সময় দিয়েছেন, কমিয়ে দুই মাস করে দেন।’

বিভিন্ন নজির তুলে ধরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় হাইকোর্ট জামিন দিতে পারেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদের সাজায় জামিন হয়েছে। ৪২৬ ধারার বিধান অনুসারে কারণ উল্লেখ করে হাইকোর্ট জামিন দিতে পারেন। এই মামলায় হাইকোর্ট কারণ উল্লেখ করে জামিন দিয়েছেন। খুব ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারেন, যদি হাইকোর্টের আদেশ ন্যায়ভ্রষ্ট হয়। তিনি বলেন, ৪৯৭ ধারায় আছে, নারী ও শিশুকে জামিন দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ৪২৬ ধারা একই। এটি ধারাবাহিকতা। এই আইনজীবী বলেন, স্বল্প মেয়াদে সাজা একটি দিক, আরেকটি দিক হলো আপিল। আপিলে যদি সাজা না থাকে বা কমে যায়, তখন কী হবে? এ ক্ষেত্রে ভারসাম্যের ওপর জোর দিতে হবে।

খালেদার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা বলে এর গুরুত্ব। তিনি না হলে আমরাও আসতাম না, সরকারও এত উৎসাহী হতো না। হাইকোর্টের এখতিয়ার আছে জামিন দেওয়ার।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code