খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual1 Ad Code

সম্পাদকীয়: কলঙ্কিত জেলহত্যা দিবস আজ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢুকে সেনাবাহিনীর কয়েকজন বিপথগামী সদস্য যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, সভ্য দুনিয়ায় এ ধরনের ঘটনার নজির নেই।

Manual3 Ad Code

সেদিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী জাতীয় চার নেতা-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান।

Manual7 Ad Code

বঙ্গবন্ধুর দৈহিক অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল অমূল্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তারা।

বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ঘাতকদের ইচ্ছায় গঠিত মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে রাজি হননি এ নেতারা। এভাবে তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন বলতে হবে। মূলত এ কারণেই বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক আহমেদের শাসনামলে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের হত্যার জন্য সেখানে পাঠানো হয় ঘাতকদের। কারারক্ষীরা বাধা দিলে খোদ মোশতাকের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসে ঘাতকদের কাজে সহায়তা করার জন্য। তারা ভেতরে গিয়ে বেছে বেছে চার নেতাকে একত্র করে এবং গুলি চালিয়ে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

এ হত্যাকাণ্ড একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা। ১৫ আগস্টের খুনিচক্রই জেলহত্যাকাণ্ড ঘটায়। তারা খবর পেয়েছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীরই একটি অংশ পালটা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। এ অবস্থায় কিছুটা জিঘাংসা থেকেও ঘাতকরা জেলহত্যার ঘটনা ঘটায় বলে ধারণা। এমনও মনে করা হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক শক্তিকে নিঃশেষ করার হীন পরিকল্পনা ছিল, তার পুনরুত্থানে নেতৃত্বদানে সক্ষম নেতাদের শেষ করে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। জেলহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বিমানবন্দর দিয়ে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code