গণহত্যার প্রতিবাদ করায় স্পেনের সঙ্গে বিবাদে জড়াল ইসরায়েল

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: গাজায় চলমান গণহত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে কূটনৈতিক বিবাদে জড়িয়েছে স্পেন ও ইসরায়েল। ইসরায়েল সফরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যার ব্যাপারে স্পেন ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধ সেখানে ঘটছে, তার সম্পূর্ণ দায় হামাসকে দেওয়া যায় না। আর এতেই চটেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছেন দুই ইউরোপীয় নেতা।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডি ক্রু গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল সফর করেন। সেখানে তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠক শেষে পেদ্রো সানচেজ বলেন, ইসরায়েল সেনাবাহিনীর হামলায় যে পরিমাণ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন তা মানা যায় না। হামাসের হামলার জবাবে কয়েক হাজার শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন। তিনি দাবি করেছেন, স্পেন ও বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়াচ্ছেন এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছেন। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পেন ও বেলজিয়ামের রাষ্ট্রদূতদের তেল আবিবে ডেকে তীব্র নিন্দা জানানোর হুমকিও দেন।

Manual8 Ad Code

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরও এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, মানবতা বিরোধী অপরাধের সকল দায়ভার হামাসকে দেননি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডি ক্রু।

ইসরায়েলের এই প্রতিক্রিয়ার জবাব দিয়েছে স্পেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস গত শুক্রবার স্পেন এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এলি কোহেনের করা ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেওয়ার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আলবারেস বলেন, ‘এর জবাব দেওয়া হবে।’

Manual2 Ad Code

আলবারেস জোর দিয়ে বলেন যে, স্পেন সরকার হামাসের হামলার নিন্দার সঙ্গে জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকেও সমর্থন করেছে। স্পেনীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমরা যে বার্তাটি বারবার দিয়ে আসছি তার সঙ্গে আমাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ অসংখ্য ফিলিস্তিনি শিশু সহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে তবে সেখানে বিচক্ষণতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মানতে হবে।

Manual6 Ad Code

পেদ্রো সানচেজের গত দুই দিনে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন এবং মিশর সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সহ মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে শান্তি আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করা। গত শুক্রবার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের মিসরীয় প্রান্তে অবস্থানকালে সানচেজ বলেন, ‘সহিংসতা কেবল সহিংসতাই ডেকে আনবে। আমরা আশা করি, শান্তি দিয়ে সহিংসতা প্রতিস্থাপন করা হবে।’

তবে গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে মাদ্রিদ ও তেল আবিবের মধ্যে এটিই প্রথম কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব না হলেও এটিই দ্বন্দ্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা। গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ এবং বোমাবর্ষণের সমালোচনার কারণে স্পেনীয় কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘আইএসআইএস-এর মতো সন্ত্রাসবাদ’ এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলে মাদ্রিদে ইসরায়েলি দূতাবাস। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে সময় মন্ত্রীদের সমর্থন জানিয়ে বলেছিল যে, ইসরায়েল তাদের মতামতকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

Manual4 Ad Code

গত শুক্রবার মিসর থেকে পেদ্রো সানচেজ ঘোষণা করেন যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য ইইউ পর্যায়ে চেষ্টা চালাবে স্পেন। অন্য দেশগুলো এতে সম্মত না হলেও তিনি একতরফাভাবে এই স্বীকৃতি দেবেন।

ইইউ কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করছে স্পেন। দেশটি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারিতে এই পদ বেলজিয়ামের কাছে স্থানান্তর করবে। এই প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিলে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে আলবারেসের প্রতিক্রিয়া ও পেদ্রো সানচেজের হুমকি বাড়তি গুরুত্ব দাবি করতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code