

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজা শহরকে দখলে নেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘গাজা ফিলিস্তিনি জনগণের সম্পত্তি।’তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে গাজা শহরকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার মতো এই বিপজ্জনক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাদের অবশ্যই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, দেশটির মন্ত্রীসভা গাজা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে – যা পুরো গাজা ভূখণ্ড দখলের পথকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। গত মাসের শেষের দিকে চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন বলেছিলেন, গাজার অবস্থান জোরপূর্বক পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা ‘শান্তি আনবে না’। আমি বেইজিংয়ের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। আল আকসা মসজিদে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের জবাবে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাস ইসরায়েলের অভ্যান্তরে অভিযান চালায়। এ অভিযানের সময় ২৫০ জনকে বন্দী করা হয়। এরপর থেকে গাজার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৬১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। অবিরাম বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর ২৭ মে থেকে ইসরায়েল জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করে। এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে।গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।