সার উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য গ্যাস সংকট জরুরি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

সম্পাদকীয়:দেশের মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন মাত্রায় খাদ্য
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক এক
জরিপে উঠে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অপুষ্টিতে
থাকা কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। কাজেই দেশের মানুষের খাদ্য
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত
করতে হবে। উপকরণের সংকট হলে কৃষি খাতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে
পারে। বর্তমানে গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে দেশের সার উৎপাদন। বিষয়টি
উদ্বেগজনক। সারের চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করলে নানা ধরনের
ঝুঁকি তৈরি হবে। ডলার সংকটের কারণে সময়মতো সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা
তৈরি হতে পারে। কাজেই দেশের সব সারকারখানা যাতে পুরোপুরি চালু থাকে, সেজন্য
পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

Manual2 Ad Code

জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের
(বিসিআইসি) আওতাভুক্ত কারখানাসহ চট্টগ্রামের তিনটি কারখানা বর্তমানে বন্ধ
রয়েছে। এসব কারখানা পুরোদমে চালু হতে আরও সময় লাগবে। এ পরিস্থিতিতে
বোরো মৌসুমের আগে সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। দেশে সবচেয়ে
বেশি ধান উৎপাদন হয় এ মৌসুমে। বোরো রোপণ এবং পরবর্তী সময়ে সার দরকার
হয়।

Manual6 Ad Code

শিল্পমন্ত্রী বলছেন, সারের কোনো সংকট হবে না। আগামী বছর থেকে বাংলাদেশ সার
রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। তিনি আরও বলেছেন, চলমান সংকটের সময়ে বাসাবাড়ির
তুলনায় শিল্প-কলকারখানায় গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমরা তার এ
বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে চাই। তবে সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আগেই সমস্যার সমাধানে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

Manual2 Ad Code

এমনিতেই আমরা সারের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক
বাজারে সারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় বিকল্প হিসাবে দেশে উৎপাদন বাড়ানো
দরকার। আগে সারের চাহিদার বড় অংশই দেশে উৎপাদিত হতো। বর্তমানে সেটি
৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। ঘোড়াশাল পলাশ কারখানা চালু হওয়ার পরও সব
কারখানা মিলে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টন সার দেশে উৎপাদন করা সম্ভব। মোট কথা,
বিভিন্ন কারণে আমরা সারের চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছি।

সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণের আমদানিনির্ভরতা বিপজ্জনক। কারণ আমদানি
করা সার নির্ধারিত সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমনিতেই
প্রয়োজনীয় সার পেতে প্রতিবছর কৃষককে নানারকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এরপর
নতুন সংকট সৃষ্টি হলে বোরোর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
সারের সংকট দূর করতে সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে
হবে। সরকার বিভিন্ন রকম সারে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এটি ইতিবাচক। সরকারের
নির্ধারিত দামে কৃষক যাতে সার ক্রয় করতে পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

Manual8 Ad Code

দেশে জ্বালানি হিসাবে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। অথচ দিনদিন আমাদের উৎপাদন কমে
আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রধান দুটি উপায় রয়েছে।
কোনো গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কূপের সংখ্যা বাড়ানো হলে সেই ক্ষেত্রে উৎপাদনের মাত্রা
বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের পাশাপাশি দেশে মজুত গ্যাসসম্পদ
পর্যাপ্ত উত্তোলন ও ব্যবহারের পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code