অর্থপাচারকারীদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual3 Ad Code

সম্পাদকীয়: আপনার বাড়িতে চুরি হয়েছে। চোর কে, তা জানেন না। আপনি মামলা করলেন। কিন্তু পুলিশ চোর ধরতে পারছে না অথবা ধরছে না। তখন আপনি ঘোষণা দিলেন, চোর যদি চুরি করা মালামাল ফেরত দিয়ে যায়, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আপনার কি ধারণা এই ঘোষণার পরে চোর আপনার জিনিসপত্র ফেরত দিয়ে যাবে? হয়তো আপনি তাকে ক্ষমাই করলেন। কিন্তু এটি ফেরত দিয়ে তার লাভ কী? তাছাড়া চোর জিনিস ফেরত দেওয়ার পরে যদি লোকে তার পরিচয় জেনে যায়, তাহলে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ঝুঁকি সে কেন নেবে? অনেকটা সে রকম একটি ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যিনি এর আগে জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, কারা দেশ থেকে টাকা পাচার করে তা তিনি জানেন না (বাংলা ট্রিবিউন, ২৭ নভেম্বর)।

Manual8 Ad Code

সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দেখা যাক, পাচারকারীদের সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে তিনি কী বলেছেন?

Manual3 Ad Code

গত ২৬ মে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে ট্যাক্স দিয়ে পাচার হওয়া টাকা বৈধ পথে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হবে। ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই দেশেও এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার ফলে অনেক টাকা দেশে ফেরত এসেছে। অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশ থেকে ৫ হাজার ডলারের বেশি পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও ডকুমেন্টস লাগবে না। আর সুনির্দিষ্ট কর দিয়ে পাচার করা টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আগামী বাজেটে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বলেন, অর্থ পাচারকারীরা এ সুযোগ গ্রহণ করে বিদেশে গচ্ছিত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবেন। প্রশ্ন হলো, এ পর্যন্ত কত টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে? কারা টাকা পাচার করেন? কীভাবে টাকা পাচার হয়? টাকা পাচার হলে দেশের কী ক্ষতি এবং এখন সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটির আইনি ও নৈতিক ভিত্তি কী? এরকম দায়মুক্তির মধ্য দিয়ে দুর্নীতি ও টাকা পাচার আরও উৎসাহিত হবে হবে কিনা—যে প্রশ্নটি প্রতি বছরই বাজেটে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে বা নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে সাদা বা বৈধ করার সুযোগ দেওয়ার সময়ও সামনে আসে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code