

মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী (রাজশাহী) :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পেয়ারার বাগানে টমেটো চাষ করে লাভবান কৃষক। শুধু টমেটো নয় একই সাথে লাউ, মরিচ, বেগুন, করলা, কলা, মিষ্টি কুমড়া, রসুন, পুঁইশাক ও পেঁয়াজও চাষ করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে তারা একটি মাত্র ফসল ধান চাষ করতেন। উপজেলার উঁচু জমিতে এবং বন্যার পানি মাঠে প্রবেশ না করায় অন্যান্য ফসল ও ফলের পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যাপক পরিমানে পেয়ার বাগান। আর এই পেয়ারার বাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে টমেটোর। গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজায় পেয়ারার বাগানে চাষ হচ্ছে টমেটো। গোপালপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম ও ছেলে মোমিনুল ইসলাম মোমিন লিজ নিয়ে মোট সোয়া ৪ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করেন। গত বছর ৫০ হাজার টাকায় পাঁচ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়েছেন। এতে করে পেয়ার বাগান গড়ে তোলেন। কিন্তু পেয়ার বাগানের মধ্যে বেশ ফাঁকা জায়গা থাকায় সেখানেই তারা টমেটোর চাষ করেছেন। গাছে ব্যাপক পরিমানে টমেটো আসে। টমেটো উঠতে শুরু করেছে।কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন বিদিরপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম তাদেরকে সাথী ফসল হিসেবে টমেটো চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। মূলত তাঁরই পরামর্শে তারা পেয়ারার মধ্যে টমেটো চাষ করেছেন। কৃষক নজরুল আরো বলেন, পেয়ারা গাছের বয়স এরই মধ্যে সাড়ে ৫মাস হয়ে গেছে। এখন অনেক গাছেই ফুল আসতে শুরু করেছে। আগামীতে পেয়ারার সাথে সাথে অন্যান্য সবজিও বিক্রি করতে পারবেন তিনি।রাসায়নিক সার তেমন ব্যবহার করেন না তারা। জৈব সার বিশেষ করে গোবর সার তারা জমিতে প্রচুর পরিমানে প্রয়োগ করেন। ফলে টমেটোর গাছও সুন্দর হয়েছে। সেইসাথে পেয়ারার গাছও দ্রুত বড় হচ্ছে। টমেটোর চারা রোপনের সময় রাসায়নিক সার টিএসপি পরিমানে কম দিতে হচ্ছে জমিতে। আর এখন শুধু জৈব সার হিসাবে (গোবর) ব্যবহার করা হয়। সেই সাথে প্রয়োজন মত সেচ প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। পেয়ারার বাগনে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও পেয়ারা এ পর্যন্ত তিনি বিক্রি করেছেন ৬৫ হাজার টাকা।নজরুল বলেন, বাজার মূল্য এখন ভাল রয়েছে। প্রতিমন কাঁচা টমেটো ১৪০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এরকম দাম শেষ অবধি থাকলে তিনি ভাল লাভ করবেন বলে আশা করেন তিনি। টমেটো তিন মাসের ফসল হলেও ৬মাস পর্যন্ত উত্তোলন করা যায়। এর মধ্যে দুই মাস পুরোপুরি ফল উত্তোলন করা যায় বলে জানান তিনি।গোদাগাড়ীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, টমেটোর প্রধান রোগ হচ্ছে ফল ছিদ্রকারী পোকা।ফল আসলে যেমন ছিদ্রকারী পোকা ফল কেটে নষ্ট করে তেমনি সাদা মাছি ও মাকড়শার আক্রমনে গাছের পাতা কুঁচকে যায় এবং ভাইরাসে আক্রমন করে।তাই ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমনে ফুল ফলসহ গাছ নেতিয়ে পরে। এর আক্রমণ শুরুতেই হলেও অনেক সময় বোঝা যায় না। তবে ফুল ও ফল আসলেই এটা প্রকাশ পায় বলে জানান । তিনি বলেন, এর আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে হলে ফসলের চাষ করার পুর্বেই প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ কেজি করে পাথর চুন প্রয়োগ করে ভাল করে চাষ করে কয়েকদিন ফেলে রাখতে হবে।