গোলাপগঞ্জে নির্বাচনে জালভোটের মহোৎসব হয়েছে :: সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

লেখক:
প্রকাশ: ২ years ago

Manual5 Ad Code

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সন্ত্রাস আর জাল ভোটের মহোৎসব হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরাজিত দুই চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ পুরো প্রশাসন নির্লজ্জভাবে মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমের পক্ষে কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। আর তাই তারা এ উপজেলায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

শনিবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।

Manual1 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহিদুর রাহমান চৌধুরী জাবেদ। এ-সময় উপস্থিত ছিলেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবু সুফিয়ান উজ্জ্বল এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী লবিবুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৮ মে গোলাপগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের নামে প্রহসন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই প্রহসনের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আহসান ইকবাল। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করেন মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিমের কর্মী সমর্থকরা।

উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বরায়া, হিলালপুর, হাজিপুর, মোল্লাগ্রাম ও কালিদাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দিয়ে দোয়াত কলম মার্কায় ব্যাপক জাল ভোট দেওয়া হয়। এমনকি এসব কেন্দ্রে প্রিসাইডিং পোলিং অফিসাররাও জাল ভোট দিয়েছেন। মসজিদের ইমামকে দিয়েও দোয়াত-কলমের পক্ষে জাল ভোট দেওয়ানো হয়েছে। এলিমের গুণ্ডাবাহিনী ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করতে গেলে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তারা ছোরা চাকু দা নিয়ে হামলা চালিয়ে আনারসের ৩ জন কর্মীর উপর হামলা করলে তারা মারাত্মক আহত অবস্থায় এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

তিনি বলেন, কেন্দ্র পরিদর্শন করার সময় কায়স্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে এলিম চৌধুরীর সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিকেল ৩টার দিকে আনারস ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীকে অবরোধ রাখে।

এসময় তারা ওই কেন্দ্রসহ আশপাশ কেন্দ্রগুলোতে টেবিল কাস্ট করেছে। সকাল থেকে বারবার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও গোলাপগঞ্জ থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করেও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি। তাছাড়া মীরগঞ্জ, শেখপুর, নিয়াগুলসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ফুরিয়ে গেছে বা আসতে দেরী হচ্ছে এমন হাস্যকর কারণ দেখিয়ে ভোট গ্রহণের গতি একেবারেই স্লো করে দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। পুলিশ আমাদের সহযোগিতা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের পরিবর্তে শেখপুরে মানুষের বাড়িবাড়ি গিয়ে হামলা করেছে। এতে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে আর কেন্দ্রমুখী হননি। এমনকি ভোট গণনায়ও ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। ঘোড়া ও আনারস প্রতীকের অনেক ভোট ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা কারণে বাতিল করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবু সুফিয়ান উজ্জ্বল বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনসহ সবাই এলিম চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছেন। তারা তাকে নির্বাচিত করার নীল নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছেন। স্কুলের শিক্ষক মসজিদের ইমামকে দিয়েও জাল ভোট দিয়ে আমার জয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এমন প্রহসনে গোলাপগঞ্জবাসী হতাশ। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা গোলাপগঞ্জ থানার ওসি, এসআই লুৎফুর এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের নামে এমন প্রহসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে তিন প্রার্থীই গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ৮ মের নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code