

ডেস্ক রিপোর্ট: এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। অনেক চালক বলছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস মিলছে না। কোথাও আবার চাপ না থাকায় স্টেশন বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এতে চালকদের আয়-রোজগারে প্রভাব পড়ছে।
বাসাবাড়িতেও সংকটের চিত্র একই। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফজলে রাব্বি সৌরভ জানান, গ্যাস না থাকায় সপ্তাহজুড়ে তাদের রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চারজন ব্যাচেলর একসঙ্গে থাকেন তারা। রান্নার জন্য লোক রাখা হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। রাত ১২টার পর কিছুটা গ্যাস এলেও তখন রান্নার লোক পাওয়া যায় না।
মিরপুর ৬০ ফিট সড়কসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সুকন্যা আমীরও একই সমস্যায় পড়েছেন। গ্যাসের সংকটের কারণে তিনি বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে, অথচ গ্যাস সংযোগের বিলও দিতে হচ্ছে।
নতুন বাজার এলাকার প্রাইভেটকার চালক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, বেশিরভাগ পাম্পেই গ্যাসের চাপ নেই। যেসব পাম্পে কিছুটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে সপ্তাহজুড়ে তিনি গাড়ি বের করাও বন্ধ রেখেছেন।
শুধু ঢাকায় নয়, আশপাশের নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদীর অনেক এলাকাতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সাভার ও গাজীপুরের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনও কমছে। পেট্রোবাংলার সূত্র বলছে, প্রতি বছর স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ১৫ কোটি ঘনফুট কমে যাচ্ছে। পুরোনো কূপ সংস্কার করেও প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশের অন্যতম বড় গ্যাস সরবরাহকারী মার্কিন কোম্পানি শেভরনের উৎপাদনও প্রতিবছর গড়ে ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমছে। রাষ্ট্রায়ত্ত স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কমছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার গ্যাস উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫ থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের হিসাবে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ সাড়ে চার মাসে সরবরাহ কমেছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে সেটি কবে পুরোপুরি চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কূপগুলো থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শেভরনসহ স্থানীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে গ্যাস আমদানি করে ঘাটতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। এই দুই টার্মিনালের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
দুটি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর সেই সরবরাহ ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি। তবে এর আগেই টার্মিনালের অক্ষত বয়লারটি চালু করার চেষ্টা চলছে। সেটি চালু করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে এনে টার্মিনালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিদেশি কারিগরি দলের পাশাপাশি দেশীয় একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরাও সেখানে কাজ করছেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিশেষজ্ঞ দল টার্মিনাল চালুর কাজ করছে। অক্ষত বয়লারটি দ্রুত চালু করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে অপর টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
হালিশহরের বাসিন্দা শিরিন আক্তারের অভিজ্ঞতা সেই সংকটেরই চিত্র তুলে ধরে। সকাল ১০টার পর গ্যাসের চুলা নিভে যায়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর বেলা ৩টার দিকে গ্যাস ফিরলেও চাপ থাকে কম। ফলে পানি ফুটাতেও দীর্ঘ সময় লাগে, রান্না শেষ হতে হতে বিকেল গড়িয়ে যায়।
কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেয়েছে। ওই সময়ে চাহিদা ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার মাত্র ৬৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১২ কোটি ঘনফুট।
কেজিডিসিএলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নগরের প্রায় সব এলাকাতেই গ্যাসের চাপ কমেছে। শিল্পকারখানাতেও চাপ কমাতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল চালু না হলে সরবরাহ আরও কমে গিয়ে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যেকোনো একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি, দুর্ঘটনা বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ বন্ধ হলে চট্টগ্রামেই তার বড় প্রভাব পড়ে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। প্রায় প্রতিবছরই ঘূর্ণিঝড়, বৈরী আবহাওয়া বা কারিগরি সমস্যার কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও সার, বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দিতে হয়েছে।
তবে বারবার সংকট তৈরি হলেও গ্রাহকদের আগাম সতর্ক করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কোন এলাকায় কখন গ্যাসের চাপ কম থাকবে, সংকট কত দিন চলতে পারে কিংবা গ্রাহকদের কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, এসব বিষয়ে নিয়মিত নির্দেশনা না থাকায় গ্যাস চলে যাওয়ার পরই অনেক গ্রাহক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন।
ফলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে কাতার এনার্জি। কাতার থেকে প্রতিবছর ৪০ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাতারের এলএনজি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগামী তিন থেকে চার বছর চুক্তির অর্ধেক কার্গো এলএনজি বাংলাদেশে আসতে পারে।
ফলে গ্যাস খাতে একসঙ্গে দুই ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে কমছে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন, অন্যদিকে এলএনজির দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহও কমছে।
তার মতে, সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি করা যেতে পারে। তবে এতে ব্যয় বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনের বিকল্প নেই। শেভরন বাংলাদেশের গ্যাসকূপগুলোতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চাইলে সরকার তা গ্রহণ করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনও আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, দেশের চাহিদার তুলনায় এমনিতেই প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতি থাকে। এর মধ্যে একটি এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল অচল হলে সংকট আরও বাড়ে।
তার পরামর্শ, দুটি ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি আরও একটি এফএসআরইউ এবং ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল থাকা জরুরি। একই সঙ্গে দেশে গ্যাস না থাকলে বিকল্প জ্বালানি উৎস নিয়েও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে জ্বালানি খাতের নীতিতে পরিবর্তন হওয়াও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি করে। একটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেটি বাতিল হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাব জিটুজি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আগামী ১৩ বছর এলএনজি আমদানিরও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গ্যাস সংকট নিরসনে সহায়তা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় পুরোনো কূপ থেকেও গ্যাস পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, পুরোনো কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে সেটিই হবে তাৎক্ষণিক সমাধান। পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে ক্রায়োজনিক আইএসও ট্যাংক আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি পরিবহন করা হবে। একইভাবে ভোলার গ্যাস এসব ট্যাংকের মাধ্যমে এনে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের উদ্যোগ রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা টার্মিনালের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজ করছেন। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে টার্মিনাল চালুর কথা বলা কঠিন হলেও দ্রুত এটি সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত আরও একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অফশোর ও অনশোর মডেল পিএসসির আওতায় গ্যাস উৎপাদনে দরপত্র আহ্বান এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের কাজও চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল। বাস্তবায়নে তিন থেকে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল দ্রুত সচল না হওয়া পর্যন্ত চলমান সংকট থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেরিয়ে আসার পথ খুব সীমিত।