গ্রিন কার্ডে স্বজন আনতে হলে স্পনসরের আয় হতে হবে কত, জানুন হিসাব

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ মাস আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা বিদেশে থাকা তাঁদের স্বজনদের স্পনসর করে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে সে দেশে আনার সুযোগ পান। তবে এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা। স্পনসরকে মার্কিন সরকারের কাছে অঙ্গীকার করতে হয় যে তিনি স্বজনের সব ধরনের আর্থিক দায়িত্ব নেবেন, যাতে ওই ব্যক্তি সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন।

Manual1 Ad Code

​এ ক্ষেত্রে স্পনসরকে জমা দিতে হয় ফর্ম আই-৮৬৪ (Form I-864), যা ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’ (Affidavit of Support) নামে পরিচিত। এই নথির মূল উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তি অন্তত দারিদ্র্যসীমার ওপরে জীবনযাপন করতে পারবেন।

Manual4 Ad Code

​মার্কিন ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্পনসরের আয় বর্তমান ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকার (Federal Poverty Guidelines) অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং নতুন যিনি আসছেন—সব মিলিয়ে মোট সদস্যসংখ্যা কত, তার ওপর ভিত্তি করে আয়ের এই ন্যূনতম পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

Manual8 Ad Code

​যেমন, পরিবারে যদি দুজন সদস্য থাকেন (স্পনসর ও নতুন অভিবাসী), তবে ২০২৪ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী দারিদ্র্যসীমা ২১,৬৪০ ডলার। ফলে ১২৫ শতাংশের হিসাবে স্পনসরের বাৎসরিক আয় হতে হবে অন্তত ২৭,০৫০ ডলার। পরিবারে সদস্যসংখ্যা তিন হলে দারিদ্র্যসীমা ২৭,৩২০ ডলার এবং এর ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪,১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য দারিদ্র্যসীমা ৩৩,০০০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১,২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ের সীমাও সে অনুযায়ী বাড়ে।

​তবে স্পনসরের নিজের আয় যদি এই নির্ধারিত সীমায় না পৌঁছায়, তাহলেও আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথ রয়েছে। প্রথমত, একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর (Joint Sponsor) অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। যৌথ স্পনসরকে অবশ্যই নিজস্ব আয় দিয়ে দারিদ্র্যসীমার ১২৫ শতাংশ পূরণের সক্ষমতা দেখাতে হয়। দ্বিতীয়ত, একই পরিবারে বসবাসকারী যোগ্য সদস্যের আয় নিয়ম মেনে যুক্ত করা সম্ভব।

Manual6 Ad Code

​এ ছাড়া আয়ের ঘাটতি থাকলে স্পনসর বা নতুন আসা ব্যক্তির সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের নিট মূল্য ব্যবহার করে সেই ঘাটতি পূরণ করা যায়। তবে সাধারণত আয়ের ঘাটতির তিন থেকে পাঁচ গুণ মূল্যের সম্পদ দেখাতে হয়, যা সহজে নগদ টাকায় রূপান্তরযোগ্য।

​আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডমিসাইল’ বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হবে। ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি একটি আইনগতভাবে কার্যকর অঙ্গীকারে পরিণত হয়। অর্থাৎ নতুন অভিবাসী যদি নাগরিক না হওয়া পর্যন্ত বা নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার আগে কোনো ধরনের সরকারি সামাজিক সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেই খরচ স্পনসরের কাছ থেকে আদায় করতে পারে।

​আয়ের এই সীমা প্রতি বছর মার্কিন হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস দপ্তর হালনাগাদ করে। তাই স্পনসরদের আবেদন জমা দেওয়ার সময় কার্যকর ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকা দেখে নেওয়া জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি ঠিকমতো জমা দিলে গ্রিন কার্ড আবেদনপ্রক্রিয়ায় জটিলতা অনেক কমে যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code