গ্রিসের পর্যটন দ্বীপ পারোসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়ছেন দমকল কর্মীরা

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ২৩ ঘন্টা আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এজিয়ান সাগরের গ্রিক পর্যটন দ্বীপ পারোসে বুধবার দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকল কর্মীরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।গ্রিসের ফায়ার সার্ভিসের উপ-মুখপাত্র ইয়ানিস আর্তোপিওস জানান, রাতের মধ্যে দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি বর্জ্য ফেলার স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রবল বাতাসে তা দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঝোপঝাড় ও গুল্মাঞ্চল পুড়ে যায়।

Manual2 Ad Code

এথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।আর্তোপিওস রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটিকে বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চলের একটি বর্জ্য ফেলার স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্বীপের দক্ষিণাংশে ছড়িয়ে পড়ে।’তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১০০ জন দমকল কর্মীর পাশাপাশি দুটি বিমান ও পাঁচটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

রাতের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।স্থানীয় কর্মকর্তারা রাতটিকে কঠিন বলে আখ্যা দেন। তবে বুধবার সকালে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানান তারা।

পারোস ও প্রতিবেশী আন্টিপারোস দ্বীপের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় কর্মকর্তা ভাজেওস পেত্রোপুলোস বলেন, ‘আজ আগুনের তীব্রতা আগের মতো নেই। তবে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় আগুন জ্বলছে। তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১০টি গ্রাম খালি করা হয়েছে। তবে কতজন বাসিন্দা ও পর্যটক বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এজিয়ান সাগরের সাইক্লাডিস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত পারোস গ্রিসের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর কাছের সান্তোরিনির পাশাপাশি এই দ্বীপেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে আসেন।

দীর্ঘস্থায়ী খরা, উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাসের কারণে প্রায় প্রতি গ্রীষ্মেই গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল দেখা দেয়। এসব পরিস্থিতি আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

Manual1 Ad Code

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েক ডজন বনাঞ্চলে আগুন লাগে। তবে দমকলকর্মীরা হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির আগেই সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।এ পর্যন্ত স্পেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে চলতি গ্রীষ্মে যে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানল দেখা গেছে, তা থেকে গ্রিস অনেকটাই রক্ষা পেয়েছিল।

Manual3 Ad Code

গত সপ্তাহে তিন দিনের তাপপ্রবাহে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।গ্রিসের আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর এত দেরিতে মৌসুমে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা এটি মাত্র তৃতীয়বার। এর আগে ২০১৫ সালের ২০ জুলাই এবং ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই একই ধরণের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code