গ্র্যামিতে গান জমা দেবে না বিটিএস, বিস্মিত ভক্তরা

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ২ মাস আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: অ্যাওয়ার্ডসে বিবেচনার জন্য নিজেদের কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। সংগীতকে ভাষা ও অঞ্চলের সীমার বাইরে তার নিজস্ব মূল্য ও শিল্পমান দিয়ে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দলটি। বিটিএসের এই ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছেন ভক্তরা, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই গ্র্যামি জয়কে দলটির অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখা হয়ে আসছিল।

Manual8 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিটিএস জানায়, এ বছর গ্র্যামির জন্য কোনো গান জমা দেবে না তারা। দলটির ভাষ্য, অঞ্চল বা ভাষার সীমা পেরিয়ে সংগীত যেন তার নিজস্ব গুণে মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং ভালোবাসা পায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।বিবৃতিতে বিটিএস আরও বলেছে, “আর্মি ও যারা সব সময় আমাদের সমর্থন করে আসছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”

Manual3 Ad Code

বিটিএসের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ সরাসরি জানানো হয়নি। তবে ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন গ্র্যামিতে এশীয় পপসংগীতের প্রতিনিধিত্ব ও মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালুর ঘোষণা দিয়েছে রেকর্ডিং একাডেমি। নতুন এই বিভাগে কে-পপ, জে-পপ, সি-পপসহ বিভিন্ন এশীয় পপসংগীতের শৈল্পিক উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। মনোনয়নের ক্ষেত্রে গানে এক বা একাধিক এশীয় ভাষার অর্থবহ ব্যবহারের শর্তও রাখা হয়েছে।

নতুন বিভাগটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতাঙ্গনে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে, বিশ্বজুড়ে এশীয় পপসংগীতের প্রভাব বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেই এমন বিভাগ চালু করা হয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি আরও আগেই আসা উচিত ছিল।

অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশের প্রশ্ন, এশীয় শিল্পীদের মূলধারার বিভাগে অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে আলাদা একটি বিভাগ চালুর মাধ্যমে তাদের পৃথক করে দেখা হচ্ছে কি না। অতীতেও আঞ্চলিক ও উদীয়মান সংগীতধারার জনপ্রিয়তা বাড়ার পর গ্র্যামিতে লাতিন ও আরঅ্যান্ডবি সংগীতের জন্য আলাদা বিভাগ চালুর উদাহরণ টানা হচ্ছে এ বিতর্কে।

বিটিএসের জন্য গ্র্যামি অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। দলটি এর আগে একাধিকবার এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গ্র্যামির কোনো পুরস্কার জিততে পারেনি তারা। দীর্ঘদিন ধরে গ্র্যামি জয়কে দলটির ক্যারিয়ারের বড় স্বপ্নগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

এর মধ্যেই কে-পপের জন্য গ্র্যামিতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ -এর ‘গোল্ডেন’ গানটি ‘চলচ্চিত্র ও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে লেখা সেরা গান’  বিভাগে পুরস্কার জেতে। এটি গ্র্যামিতে পুরস্কার পাওয়া প্রথম কে-পপ গান হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে। তবে গানটি বিটিএসের নয়, ফলে এই অর্জনকে বিটিএসের ব্যক্তিগত গ্র্যামি জয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

Manual3 Ad Code

এদিকে সামরিক দায়িত্ব শেষ করে চলতি বছরের মার্চে নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করেছে বিটিএস। অ্যালবামটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর পর অনেক ভক্ত আশা করেছিলেন, নতুন অ্যালবামের গান নিয়ে এবার হয়তো গ্র্যামির দৌড়ে দেখা যাবে দলটিকে।

সেই প্রত্যাশার মধ্যেই গ্র্যামিতে গান জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিল বিটিএস। ফলে ২০২৭ সালের গ্র্যামিতে দলটির কোনো গান বিবেচনার জন্য থাকবে না। নতুন এশিয়ান পপ বিভাগ চালুর পর বিটিএসের এমন সিদ্ধান্ত কে-পপ ও গ্র্যামির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code