ঘুরে আসুন দরসবাড়ি মসজিদ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual6 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: বাংলাদেশে মুসলিম শাসন ও ইসলামি সভ্যতার অনেক নিদর্শন আবিষ্কার হয়েছে। তবে বাংলার ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রের একমাত্র প্রাচীন নিদর্শন দরসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশকিছু ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রের উল্লেখ পাওয়া গেলেও প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে কেবল দরসবাড়িতে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় কানসাটের কাছাকাছি দরসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা। এর আশেপাশে রয়েছে বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড়-পাণ্ডুয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন। এগুলো হলো ছোট সোনা মসজিদ, তাহখানা কমপ্লেক্স, কোতয়ালী দরজা, সোনা মসজিদ স্থলবন্দর, চামচিক্কা মসজিদ, বালিয়াদীঘি, খানিয়াদীঘি। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা কাছাকাছি অবস্থিত। তাই সবখানেই একবেলায় ঘুরে আসা যায়।

Manual4 Ad Code

আজ থেকে ৫০০ বছর আগে বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড়ে স্থাপিত হয়েছিল দরসবাড়ি মসজিদ ও মাদরাসা কমপ্লেক্স। বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যমতে, সুলতান শামছুদ্দীন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ (শাসন ১৪৭৫-১৪৮১) ১৪৭৯ খ্রিষ্টাব্দে অনিন্দ্যসুন্দর এই কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু ১৪৮১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করলে এর নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়। কিছুদিন পর বাংলায় অল্প সময়ের জন্য হাবশী শাসনের গোড়াপত্তন হয়। বিভিন্ন বিশৃঙ্খলায় তখন রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কাজে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী সময়ে সুলতান আলাউদ্দীন হোসাইন শাহ (শাসন ১৪৯৪-১৫২০) ১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে দরসবাড়ি মসজিদ-মাদ্রাসার নির্মাণ বাকি কাজ সম্পন্ন করেন।

দরসবাড়ি মসজিদ বা মাদ্রাসার কথা বললে স্থানীয়রা খুব একটা চেনে না। তাদের কাছে পরিচিত নয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি। অথচ সোনা মসজিদ বা তাহখানা কমপ্লেক্সের কথা অনেকেই জানে, এগুলোর নাম বললেই তারা অনায়াসে চিনতে পারে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে দরসবাড়ি মাদ্রাসার গুরুত্ব অনেক বেশিই হওয়ার কথা।

Manual5 Ad Code

সোনা মসজিদ ও দরসবাড়ি মসজিদ কাছাকাছি, বড়জোর এক কিলোমিটার দূরত্বে দুটির অবস্থান। কানসাট থেকে সোনা মসজিদ ও দরসবাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। আমরা যে অটোরিকশায় দরসবাড়ি যাচ্ছি, তার চালক দরসবাড়ির নাম শোনেননি আগে। আমরাই রাস্তার পশ্চিম পাশে ধুলো জমা সাইনবোর্ড দেখতে পেলাম। আশেপাশে পাথর ব্যবসায়ীদের ভাঙানো পাথর স্তূপ করে রাখা। সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় ট্রাকে করে এসব পাথর আমদানি হয়। পাথরের জগদ্দলের ভেতর দিয়ে একটি কাঁচা রাস্তা ধরে সামনে এগোলে দরসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা।

Manual2 Ad Code

কাঁচা রাস্তা ধরে ১০০ গজ সামনে এগিয়ে পাকা রাস্তা চোখে পড়লো। তারপর আবারও কাঁচা রাস্তা ধরে আরেকটু সামনে এগোলে হাতের ডান দিকে দরসবাড়ি মসজিদ। রাস্তা থেকে আমবাগানের ভেতর দিয়ে তাকালে লাল ইটের ইমারতের অবয়ব নজরে আসে। সাধারণ পথচারী কেউ না জানলে রাস্তা ধরে সামনে চলে যাবে। কেননা রাস্তা থেকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে না দেখলে আমবাগানের ভেতর দিয়ে মসজিদটি চোখে পড়ে না। এখানে সরকারি কোনও নির্দেশিকা দেওয়া নেই। আমরা কৌতূহল নিয়ে এসেছি বলে আশেপাশে নজর রেখে এগোচ্ছিলাম।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code