

ডেস্ক নিউজ: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম লোহাজুড়ী। এখানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শতাধিক ভাস্কর্য দিয়ে প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে সাজানো গোছানো মরুদ্বীপ ৭১’ স্বাধীনতা পার্ক। এগুলো তৈরি করেছেন প্রয়াত ভাস্কর মৃণাল হক। এসবের মাধ্যমে গৌরবময় ইতিহাসকে সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মহান ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১’, কিছুই বাদ যায়নি। বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। ম্যুরালের মাধ্যমে আলাদা আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরকে। বীরশ্রেষ্ঠদের আলাদাভাবে ম্যুরালের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন প্রজন্মের কাছে।
জলাশয়ের ওপর বিজয় পথ সেতুতে উঠলে চোখে পড়ে অস্ত্র হাতে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দাঁড়িয়ে আছেন। কোথাও দেখা মিলবে গেরিলা বাহিনী দূরবীন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে শত্রুর নিশানা খুঁজছে। বাদ যায়নি অপরাজেয় বাংলা কিংবা মুজিবনগর। শেষ হয়েছে ক্ষুদিরামের ফাঁসির মঞ্চের কাজ। দেখা মেলে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির লোকায়ত ইতিহাসের।
চোখের সামনে মুক্তিযুদ্ধকে খুঁজে পেতে দূর-দূরান্ত থেকে কটিয়াদীর অজপাড়াগায়ে প্রতিদিনই ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা। পার্কে ঘুরতে আসা বকুল মিয়া বলেন, ‘এত সুন্দরভাবে ইতিহাসকে এখানে ভাস্কর্য দিয়ে সাজানো হয়েছে, মনে হচ্ছে সত্যিই বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে আছেন, মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করছেন!’
আরেক দর্শনার্থী বাদশা মিয়া প্রথমবার এসেছেন এই পার্কে। তার কথায়, ‘এখানকার ভাস্কর্যগুলোকে জীবন্ত মনে হয়। ইতিহাস সমৃদ্ধ এত সুন্দর একটি পার্কে এসে দারুণ লাগছে। এখানে এলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাসহ বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে খুঁজে পাবে।’
২০১৩ ও ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের পার্কটির বিভিন্ন ভাস্কর্য দুইবার উগ্র মৌলবাদীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে। বেশকিছু ভাস্কর্যের হাত-পা ও অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয়। প্রায় দেড় হাজার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। থানায় দুইবারই মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায়নি। তবুও থেমে নেই কাজ। এখানে একের পর এক ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে। ভাস্কর্যের মাধ্যমে ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।