ঘূর্ণিঝড় ফিনজালের প্রভাবে বৃষ্টি, শীত নিয়ে যা বলল আবহাওয়া অধিদপ্তর

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual1 Ad Code

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফিনজালের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় দেশের তাপমাত্রা কমে বাড়তে পারে শীত। সেই সঙ্গে রয়েছে বাতাসও। এতে শীতটা যেন একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে নগরবাসীর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমতে পারে। শনিবার দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল রোববারেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়তে পারে শীত।

দুপুর থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘলা। চারদিক ঢেকে ফেলা মেঘের মাঝেমধ্যে সূর্য উঁকি দিলেও তেজ তেমনটা ছিল না। বিকেল ৪টার পর থেকে রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, শাহবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শীতল বাতাস বয়ে যেতে থাকে। দু-এক ফোঁটা বৃষ্টির চিহ্ন দেখা গেলেও পরক্ষণে থেমে যায়। তবে সন্ধ্যা ৫টার পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ফিনজাল’ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বেলা ৩টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৬৪৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১ হাজার ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে ছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। কেন্দ্রের নিকটবর্তী সাগর খুবই উত্তাল। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা আজ সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাগরে সৃষ্ট ঝড়ের কারণে দেশের উপকূল অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকাতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টিতে শীত বাড়বে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তাপমাত্রা আরও কমে যাবে। এই সপ্তাহে ডিসেম্বরে দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমে যাবে।

পঞ্চগড়ে টানা তিন দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

এদিকে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ছিল।

তবে মেঘমুক্ত আকাশে কুয়াশা না থাকায় ও ঝলমলে রোদের দেখা মেলায় কর্মজীবী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ছিল। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল শুক্রবারও তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Manual2 Ad Code

সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশা থাকলেও ভোরেই আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য। কিছুক্ষণ পর ঝলমলে রোদ দেখা দিলেও সবুজ ঘাসের ডগায় টলমল করতে দেখা যায় শুভ্র শিশির।

Manual2 Ad Code

স্থানীয়রা জানান, জেলায় সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তরীয় হিমেল হাওয়ায় শীতের পরশ অনুভূত হচ্ছে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত গায়ে ভারী কাঁথা নিতে হচ্ছে। তবে তিন দিন ধরে কুয়াশার পরিমাণ কম। তাই সকাল ঝলমলে রোদ থাকায় কর্মজীবীরা স্বস্তিতে কর্মস্থলে যেতে পারছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক খান বলেন, কয়েক দিন ধরে কুয়াশা কম দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে সকালে রোদ ওঠায় দিনে বেশি শীতের তীব্রতা মনে হয় না। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই শীতে থাকা যায় না। গরম কাপড়চোপড় পরে থাকতে হয়।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code