চলনবিল কারেন্ট জালের ব্যবহার বেড়েছে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

চাটমোহর (পাবনা) :
আগাম বন্যাকে পুঁজি করে পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলের নদী-নালা, খাল-বিলে অবৈধ কারেন্ট জাল, বেড়িজাল ও মশারি জালের মাধ্যমে মৎস্য শিকার শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই দেশী প্রজাতির মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন করা হচ্ছে। এতে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এ এলাকায় মিঠাপানির মাছের অকাল দেখা দিতে পারে এমন আশঙ্কা বিরাজ করছে অভিজ্ঞ মহলে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আগাম অত্যাধিক বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার মাছের প্রজনন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির লোভী মৎস্য শিকারী ও ব্যবসায়ী অবাধে নিধন করে যাচ্ছে মা মাছ ও পোনা মাছ। অবাধে দেশীয় প্রজাতির মা ও পোনা মাছ নিধন করায় চলনবিলাঞ্চলের উপজেলার বাজারগুলোতে এখন পুটি, টেংরা, শোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টানা জাল, বেড়ি জাল ও মশারি জালসহ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধেই নিধন করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মাছ ও রেণু পোনা মাছ। এ মাছ শিকার করা অপরাধ-এ ব্যাপারে ধারণা নেই মাছ শিকারিদের। অনেকে আবার জেনেও না জানার ভ্যান করে মাছ শিকার করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যেভাবে পোনা মাছ নিধন চলছে এভাবে চলতে থাকলে অনেক দেশি প্রজাতির মাছ আর দেখা যাবে না। চলনবিলাঞ্চলে পোনামাছ ও মা মাছ নিধনকারীদের চোখে পড়ার দৃশ্য যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নানা অজুহাতে উপজেলা মৎস্য প্রশাসন এসব দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ফলে বিল ও জলাশয়ে অবাধে পোনা মাছ ও মা মাছ নিধন করায় দেশি মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার একাধিক বাজারে কারেন্ট জাল দেদারসে বিক্রি হলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। ক্রেতারাও এসব জাল নির্দ্বিধায় ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কারেন্ট জাল বিক্রির দোকান গুলোতে কোনো প্রকার অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যাচ্ছে না। বাজারে এমন একটি কারেন্ট জাল রয়েছে যে জাল দিয়ে এক ইঞ্চি আকারের মাছের পোনা শিকার করা যায়। প্রতিদিন কারেন্ট জাল দিয়ে শিকার করা অসংখ্য মাছ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কারেন্ট জাল বেশি বিক্রি হয় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী।
এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব রহমান জানান, মৎস্যজীবিসহ বিলপাড়ের মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে পোনা ও মা মাছ নিধন না করার জন্য। তাছাড়া কারেন্ট জালের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code