

সংগ্রাম দত্ত
সারা দেশের মতোই চায়ের রাজ্য ও পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলাও অস্বাভাবিক দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ আর গরমে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, অফিস-আদালতে কাজের গতি মন্থর, কৃষিজমিতে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। স্কুল-কলেজে উপস্থিতি কমে গেছে, আর শ্রমজীবী মানুষ বাধ্য হচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি নিতে।
চায়ের নগরীতে অস্বাভাবিক গরম-
যে শ্রীমঙ্গলকে সাধারণত দেশের শীতল অঞ্চল বলা হয়, সেখানেও এবার দাবদাহ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। চা-বাগানের শ্রমিকরা গরমে দিনভর কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তীব্র গরমের প্রভাবে চা পাতার উৎপাদনও কমে গেছে, যা পুরো চা-শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন গরম শ্রীমঙ্গলে আগে কখনও দেখা যায়নি।
দুর্ভোগের চিত্র-
গ্রামীণ জনপদে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকার পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে, নলকূপেও পানি কমে গেছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন। শহরে বিদ্যুতের লোডশেডিং গরমকে আরও অসহনীয় করে তুলছে। দুপুরে রাস্তায় হাঁটার সাহস পাচ্ছেন না পথচারীরা। রিকশা-ভ্যানচালক থেকে শুরু করে অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ—সবাই গরমে নাজেহাল। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা-
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহ হিট স্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই জাতীয় খাবার ও ভারী পদ এড়িয়ে ডাবের পানি, রসালো ফলমূল ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বস্তির প্রার্থনা-
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তাই অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন সর্বত্র একটাই প্রার্থনা—দ্রুত বৃষ্টি নামে, আর প্রকৃতির এই ভয়ংকর তাপ থেকে মুক্তি মেলে।