চীন ত্ত ভারত সংকট : মোদীর অদূরদর্শী কৌশল

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তার রাশিয়াপন্থী সহযোগী ভি কে কৃষ্ণ মেননের পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে যে ভুল করেছিলেন, চীনের প্রতি কৌশল নির্ধারণে মোদীও একই ভুল করছেন। মোদী তার পররাষ্ট্র-বিষয়ক মন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের উপর নির্ভরশীল, যিনি প্রবলভাবে বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বাধলেই কেবল ভারতের কৌশলগত স্বার্থ সর্বোত্তমভাবে পূরণ হতে পারে। মোদী ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভারতের বৈদেশিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং রীতিনীতিকে পরিত্যাগ করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজের ক্ষমতাকে সুরক্ষিত করতে তিনি বৈদেশিক নীতিকেও ভোটার আকর্ষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি পুলওয়ামার সন্ত্রাসী হামলা এবং তৎকালীন পাকিস্তানের বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরিচালিত করে নির্বাচনী এজেন্ডা হিসেবে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদকে ব্যবহার করেছিলেন। নির্বাচনের সময় মোদী পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ফিরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

Manual1 Ad Code

দেশের প্রতিটি ফ্রন্টে ব্যর্থতা সত্ত্বেও, মোদী সফলভাবে তার পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিভিন্ন পরাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত দেশের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে অভ্যন্তরীণ নীতির ব্যর্থতা গোপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, বাজারে পণ্য বা পরিষেবা যা কিছু পাওয়া যায়, তার জন্য ভোক্তাকে অর্থ প্রদান করতে হয়, অর্থাৎ বিনা পয়সায় কেউ কিছু পায় না। তত্ত্বটি এটাই বোঝায় যে, “বিনে পয়সায় মধ্যাহ্নভোজ বলে কিছু নেই।” এটা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কৌশলের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে প্রযোজ্য।
একটি মহাশক্তিধর দেশের নেতার সঙ্গে প্রতিটি আলিঙ্গন এবং হ্যান্ডশেক একটি নির্দিষ্ট মূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। কখনও কখনও এটা আর্থিক মূল্যে নির্ধারিত হয়। পুতিনের সঙ্গে আলিঙ্গন ও হাত ঝাঁকানোর জন্য প্রতিরক্ষার নামে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র বাবদ ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্য দিয়েছিলেন। ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁয়ের সঙ্গে হ্যান্ডশেকের মূল্য ছিল রাফাল চুক্তির জন্য ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এগুলো ছিল সুস্পষ্ট আর্থিক ব্যয়, পুতিন এবং ম্যাক্রোঁকে জড়িয়ে ধরার সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত ব্যয় নয়। তবে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে মোদীকে আরও অনেক বেশি কৌশলগত মূল্য দিতে হয়েছিল।
উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত “হাউদি, মোদী (টেক্সাসের প্রচলিত একটি শুভেচ্ছামূলক সম্ভাষণ, যার মানে-হ্যালো মোদী, আপনি কেমন আছেন) নামে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানটির কথা উল্লেখ করা যায়।
এই অনুষ্ঠানে আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক অংশ নিয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ট্রাম্পের অংশগ্রহণ যিনি মোদীর সঙ্গে প্রায় এক ঘন্টা কাটিয়েছিলেন। তবে এই অনুষ্ঠানগুলোতে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ এবং মোদীকে প্রশংসা করা নিখরচায় হয়নি। বিশ্বস্ত মার্কিন সহযোগী এবং বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য এখন কৌশলগত মূল্য গুণতে হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code