

নিউজ ডেস্কঃ
টানা তৃতীয়বারের মত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মমতা ব্যনার্জিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল বিজয় আপনার উপর পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সুগভীর আস্থার প্রতিফলন।’
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সার্বিক উন্নয়ন এবং অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন।
শেখ হাসিনা আশা করেন যে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে যা দুই বাংলার মানুষের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গঠনে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস মহামারীর এই ক্রান্তিকালে বন্ধুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করে যেতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।
ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষভাবে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়, হৃদয়ের এবং আবহমান কালের।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ এর এই বিশেষ সময়ে যখন আমরা মুজিববর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করছি, সেই মাহেন্দ্রক্ষণে, আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি-বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবদান এবং সেই সঙ্গে আমাদের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জীবনচর্যা।
দুই বাংলার জনগণের অধিকতর সমৃদ্ধ ভবিষ্যত বিনির্মাণের লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো শপথ নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার রাজভবনে ক্ষুদ্র পরিসরে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৬ ও ৭ মে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত বিধায়করা।
শপথ বাক্য পাঠ করার পর মমতা ব্যানার্জি জানান, তার সরকারের প্রথম কাজ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, রাজভবন থেকে সরাসরি নবান্নে গিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানেই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর বিকেল ৩টায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেবেন মমতা।
এর আগে সোমবার (৩ মে) সন্ধ্যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শপথগ্রহণের দিন ঠিক হওয়ার পর সোমবার রাজভবনে যান মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক করেন মমতা ব্যানার্জি। এরপর তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী গত ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট আট দফায় হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটগ্রহণ। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান বিরোধীপক্ষ বিজেপি যদিও গত কয়েক মাস ধরে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয়েছে ২১৩টি আসনে। বিজেপি জয় পেয়েছে ৭৭টিতে।
তবে তৃণমূলের বেশিরভাগ প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হলেও জয় পাননি দলের সভানেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম আসনে নিজের একসময়ের ‘লেফটেন্যান্ট’ এবং বর্তমান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১ হাজার ৬২২ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।
তাতে অবশ্য তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। কারণ, ভারতীয় সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, বিধানসভার সদস্য না হয়েও কেউ যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, সেক্ষেত্রে তাকে নিতে হবে রাজ্যপালের অনুমতি।
হেরে যাওয়ার পরও দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এবং দলের বিধায়করা কাউকে নেতা নির্বাচিত করলে তার মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
তবে ভোটে না জিতেও কোনো ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ওই পদে বসার ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে যেকোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। তা না পারলে ছেড়ে দিতে হবে পদ।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে এবার ২ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি আসনে ছয় মাসের মধ্যে জিতে এলেই মমতার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার বাধা কাটবে।