জনজীবনে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual6 Ad Code

রায়হান আহমেদ তপাদার :: আজ থেকে প্রায় ৭৬ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। সে যুদ্ধে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ দেশের শিল্প-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে, পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানকে সম্প্রসারণ ও পুনরুদ্ধারের মতো সুবিশাল কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়। এমনিতেই বিশ্ব নতুন মহামারি আগ্রাসনের সম্মুখীন। দেখতে না পাওয়া এ শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আরো একবার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলোর সাধারণ মানুষের আয় কমছে, লাখ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে। এই মহামারির প্রভাব অর্থনীতিতে কতটা প্রকট হয়ে উঠতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আমরা যে বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, সে বিষয়ে সবাই নিশ্চিত।

বিশ্ব ব্যাংকের দেওয়া সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৈশ্বিক অর্থনীতি সবচেয়ে বড় সংকোচনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন গভীরতর মন্দা ধেয়ে আসছে। ধেয়ে আসছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। রাশিয়ার আগ্রাসী আক্রমণে বিধ্বস্ত ইউক্রেন। এর জের ধরে মস্কো আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং বাজার ব্যবস্থা থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে,পশ্চিমা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের নীতিগত অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আজকের এই মুদ্রাস্ফীতি একটি নিছক ক্ষণস্থায়ী ঘটনা এবং এটি আপনা-আপনিই ঠিক হয়ে যাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো শেষমেশ এই ধারণা বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন ইচ্ছাকৃতভাবেই উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থাকে কড়াকড়ির মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

Manual3 Ad Code

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে যাচ্ছে। আর এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা পশ্চিমা বিশ্ব। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে বারবার শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে একটা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবির বিপরীতে পশ্চিমা বিশ্ব বরাবরই তাদের অনীহা দেখিয়ে আসছে এবং ইউক্রেনকে অনেকটা জোর করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিকিয়ে রাখছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগিরই রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে তারা আরো আধুনিক সমরাস্ত্র পাঠাচ্ছেন ইউক্রেনে। মূলত ডনবাস অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে রাশিয়ার তীব্র আক্রমণ এবং সেখানে ইউক্রেনের দুরবস্থা যেন অন্যান্য অঞ্চলে নিয়োজিত ইউক্রেনীয় সেনাদের মনোবল নষ্ট না করে সেদিকে এখন নজর তাদের। সোজা কথায় এই যুদ্ধ যেন দ্রুত শেষ না হয় কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয় সেদিকে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো।

এদিকে এই যুদ্ধকে ছাপিয়ে বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি। ইইউ এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেবে। শুধু পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ চলমান থাকার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে। ইইউ দেশগুলো রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করে এর দুই-তৃতীয়াংশই আসে সমুদ্রপথে, আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ আসে পাইপলাইনের মাধ্যমে। সুতরাং সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে ইউরোপের দুই-তৃতীয়াংশ তেলের চাহিদার বাজার হারাতে যাচ্ছে রাশিয়া। এ ক্ষেত্রে হাঙ্গেরি, সেøাভাকিয়া ও চেক রিপাবলিক তাদের প্রয়োজনীয় তেলের বেশির ভাগ রাশিয়া থেকে আমদানি করে আসছে বলে এর বিকল্প বাজার শেষ নাগাদ এই তিনটি দেশ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। তা ছাড়া রাশিয়ার ওপর নতুন করে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে এটা হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ দফা নিষেধাজ্ঞা এবং এই নিষেধাজ্ঞার আওয়ায় নতুন করে আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং একটি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য রাশিয়া যে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করছে এর মূল উৎস তেল বিক্রি বন্ধ করে তাদের নতুন করে চাপে ফেলা। এখানে উল্লেখ্য, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকের বেশি ক্রেতা এই ইউরোপীয় দেশগুলো এবং এর মধ্যে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও চেক রিপাবলিক তাদের প্রয়োজনীয় তেলের যথাক্রমে ৯৬, ৫৮ ও ৮০ শতাংশ আমদানি করে রাশিয়া থেকে। ইউরোপীয় দেশগুলো এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাশিয়ার তেলের বিকল্প বাজার, যা তাদের চাহিদা পূরণ করবে সেটা নিয়ে যেমন দুশ্চিন্তায় রয়েছে, তেমনি এই সংকট দীর্ঘতর হলে এবং এই দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিকল্প উৎস কতটুকু সহায়ক হবে সেটা নিয়েও চিন্তিত।

এখানে এটাও বলা চলে যে ইইউভুক্ত কোনো কোনো দেশ এই সিদ্ধান্তকে যে খুব একটা খুশি মনে মেনে নিচ্ছে তাও কিন্তু নয়। বিশেষ করে জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলো অনেক বেশিমাত্রায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এবং ইইউয়ের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি হতে যাচ্ছে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন, তেলের পাশাপাশি ইইউ আগামী বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। ২০২১ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর গ্যাস চাহিদার ৪০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। এর মধ্যে ইতালি ও জার্মানিতে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে ইইউ এই গ্যাসের বিকল্প বাজার হিসেবে কাতার, আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়াকে বিবেচনা করছে।

Manual7 Ad Code

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিলে ইউরোপীয় দেশগুলোর চাহিদা মেটাতে এর বিকল্প বাজার কি আছে। এ ক্ষেত্রে ওপেক ও ওপেকপ্লাস দেশগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে বলা হচ্ছে। কিছু ওপেক দেশ রয়েছে, যাদের ওপর রাশিয়ার এক ধরনের প্রভাব রয়েছে, তারাসহ কিছু দেশ এই মুহূর্তে বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে উৎপাদন সহসা বাড়ানো সম্ভব নয় বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১ জুন আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেড়ে গিয়ে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের মূল্য এসে দাঁড়ায় ১২০ ডলার, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ ডলার বেশি। ধারণা করা যাচ্ছে, তেলের বিকল্প বাজারের খোঁজ করতে না পারলে এটা হয়তো খুব দ্রুতই ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে বা সেটাও ছাড়িয়ে যাবে। আর যদি এমনটা হয়, তাহলে তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠবে এবং নতুন এক বৈশ্বিক মহামন্দা মোকাবিলা করতে হবে গোটা বিশ্বকে।

অনুমিত সমস্যা সমাধানের একটা বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ লাতিন আমেরিকার দেশ এবং অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী ভেনিজুয়েলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞার শর্ত শিথিল করে সেখানে তেলের নতুন বাজার সৃষ্টির কথা ভাবছে। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে কিছুটা সতর্ক অবস্থায় আছে ভেনিজুয়েলা। তারা এরই মধ্যে তাদের তেল উৎপাদন দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রায় প্রতিদিন আট লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া থেকে ২০২১ সালের তথ্য অনুসারে এক দিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট সহায়ক। তাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, এর ফলে তেল বিক্রি করে এ বছরের শেষ নাগাদ তাদের অর্থনীতি ২০ শতাংশ অধিক অগ্রগতি অর্জন করবে। তবে রাশিয়ার সমান সক্ষমতা অর্জন করে গোটা বিশ্ব দূরে থাকুক, কেবল ইউরোপের চাহিদা মেটাতে কোনোভাবেই এটা বিকল্প হতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক অব গ্লোবাল রিসার্চ সম্প্রতি তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিকল্প ও টেকসই বাজার না থাকায় রাশিয়ার ওপর ইউরোপের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্বব্যাপী ৮০-এর দশকের মতো তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেবে। যা মহামন্দায় রূপ নিতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। ইইউ তাদের সাম্প্রতিক সময়ের পদক্ষেপে রাশিয়া থেকে আমদানি বন্ধ করে রাশিয়ার ওপর আর্থিক ক্ষতির যে দায় চাপানোর চিন্তা করছে সেটা অনেকটা নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার শামিল। কারণ রাশিয়া থেকে অনেক বছর ধরেই তাদের তেল চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ আসছে পাইপলাইনের মাধ্যমে। এখন সেই পাইপলাইন বন্ধ থাকবে, রাশিয়ার তেলের বাজারে হয়তো ধস নামবে; কিন্তু নতুন কোনো দেশের পক্ষে এই পাইপলাইনে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, আমদানির পুরোটাই করতে হবে সমুদ্রপথে। আর বিকল্প বাজারের সংকট তো রয়েছেই।

প্রায় আড়াই বছর ধরে বৈশ্বিক করোনা মহামারি সামাল দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, শিল্প-কারখানাগুলো সচল হয়েছে। এদিকে ইউরোপে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়েছে। পর্যটনের মৌসুম চলছে সেখানে। তেলের চাহিদা বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় তেলের জন্য অতিরিক্ত খরচ মানে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া। সমস্যাটি উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে আরো বেশি প্রকট, বিশেষ করে ক্ষুদ্র দেশগুলোর জন্য। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে রাশিয়া পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, এর ফলে বিশ্বব্যাপী এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পর রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাদের দৈনিক তেল উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ১৩ লাখ ব্যারেল। রাশিয়ার তেলের ৬০ শতাংশ ইউরোপে, ২০ শতাংশ চীনে এবং বাকি ২০ শতাংশ সারা বিশ্বে রপ্তানি হয়।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া এখন ঘোষণা দিয়েছে, প্রয়োজনে বাজারদরের চেয়ে কমে তারা তেল বিক্রি করবে। চীন ও ভারত রাশিয়া থেকে তাদের তেল ক্রয় অব্যাহত রেখেছে এবং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তাদের চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করে রাখছে। এ ক্ষেত্রে তারা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে না। বাংলাদেশকেও সম্প্রতি রাশিয়া সরকারের তরফ থেকে তেল ক্রয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সব শেষে, যে যুদ্ধকে ঘিরে আজকে আমরা এক চরম বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি এর দায় কতটুকু রাশিয়ার আর কতটুকু পশ্চিমা দেশগুলোর এসব যতটুকু না চর্চা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি চর্চিত হচ্ছে তারা কীভাবে আগে এই সংকট থেকে নিজেদের রক্ষা করবে। কোনো দায় না থাকা সত্ত্বেও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো এই সংকট মোচনে ক্রমান্বয়ে একা হয়ে পড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্য মূল্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়া এবং প্রকৃত আয় কমে যাওয়া ভোক্তাদের ওপর চরম আঘাত হেনেছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের নতুন কোনো রোমাঞ্চকর সিদ্ধান্ত নিতে দুবার ভাবতে হচ্ছে। যদি দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং সেই মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা না যায়, তাহলে গোটা বিশ্বের আর্থিক হিসাব-নিকাশ উল্টে যাবে।

Manual8 Ad Code

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ যে ভোক্তামূল্য সূচক দেখাচ্ছে, সেখানে মূল মুদ্রাস্ফীতি এখনো ৬ শতাংশের ওপরে। পরিষেবা খাতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছেই। এ অবস্থায় ফেডারেল রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যে কড়া অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল, সেই অবস্থা থেকে তারা শিগগিরই সরে আসবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে যদিও অর্থনৈতিক পতন ইউরোপের মতো গুরুতর হয়ে ওঠেনি, তবে এটি তাৎপর্যপূর্ণ চেহারা নিয়েছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় কড়াকড়ি তা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার বীজ বপন করতে পারে। তাহলে প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে, আমরা কি নতুন একটি বৈশ্বিক মন্দার দিকে যাচ্ছি।

Manual5 Ad Code

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code