জনপ্রিয় হচ্ছে কনডোমিনিয়াম

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual6 Ad Code

• মধ্যবিত্তের কাছে কনডোমিনিয়াম জনপ্রিয় হচ্ছে

• সাধারণ প্রকল্পের চেয়ে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা

• প্রকল্পভেদে সুযোগ-সুবিধা কমবেশি হতে পারে

• বাড়তি সুবিধার কারণে খরচ বেশি বাড়ে না

• জমির দামের কারণে ফ্ল্যাটের মূল্যে ওঠানামা

 

ঢাকায় বাচ্চাদের খেলার মাঠ হাতে গোনা। হাঁটার জায়গা বলতে কয়েকটি উদ্যান। সাঁতার কাঁটতে যেতে হয় পাঁচ তারকা হোটেল কিংবা ক্লাবে। এই সুযোগ-সুবিধাগুলো হাতের নাগালে নিয়ে আসতে নতুন ধরনের আবাসন প্রকল্প করছে দেশীয় বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠান। কনডোমিনিয়াম নামের সেই প্রকল্পে ব্যায়ামাগার, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা, এটিএম বুথ, ফার্মেসি, নিত্যপণ্যের দোকান ইত্যাদি সুবিধা থাকছে।

 

সাধারণ প্রকল্পের চেয়ে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা থাকায় মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে তাই কনডোমিনিয়াম প্রকল্প জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, মালিবাগ, কাঁচপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন কনডোমিনিয়াম প্রকল্প হাতে নিয়েছে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনও প্রতিষ্ঠান আছে, যারা কিনা একসঙ্গে তিনটি কনডোমিনিয়াম প্রকল্পের নির্মাণকাজ একসঙ্গে করছে।

 

Manual1 Ad Code

আবাসনশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, কনডোমিনিয়াম প্রকল্পের কারণে মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। বড় জায়গা ছাড়া সব সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কনডোমিনিয়াম করা সম্ভব না, যেটি ঢাকায় পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। সরকার যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে এ রকম আরও অনেক প্রকল্প হবে।

 

জানতে চাইলে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চাদের খেলার মাঠ, হাঁটার জায়গা, সুইমিংপুলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকায় কনডোমিনিয়াম প্রকল্প বসবাসের জন্য খুবই ভালো। এ ধরনের আবাসন প্রকল্পের কারণে নাগরিক সমাজের জীবনযাত্রা উন্নত হবে।

 

কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ী জানান, ইউরোপ-আমেরিকার পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কনডোমিনিয়াম প্রকল্প আছে। সেসব দেশে অভিজাত কনডোমিনিয়াম যেমন আছে, তেমনি মধ্যবিত্তের জন্যও কনডোমিনিয়াম আছে। স্থানীয় মানুষের চাহিদা অনুযায়ী একেক দেশে একেক রকম প্রকল্প হয়। সুযোগ-সুবিধাও কিছুটা ভিন্ন হয়। তেমনি বাংলাদেশেও মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখে এ ধরনের প্রকল্প হাতে নিচ্ছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। তাতে একটি সমাজের প্রয়োজন অনুসারে সুযোগ-সুবিধা থাকছে।

 

ঢাকার মিরপুরে বড় আকারে বিজয় রাকিন সিটি নামে কনডোমিনিয়াম প্রকল্প করেছে রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। সেখানে ১৬ একর জমিতে ৩৬টি ভবনে ১ হাজার ৯৫০ ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পুরো প্রকল্পে ৬২ শতাংশ খোলা জায়গায় একাধিক খেলার মাঠ, সুইমিংপুল, হাঁটার জায়গা, কনভেনশন হল, বিদ্যালয় ইত্যাদি গড়ে তোলা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে কাঁচপুরে দেড় শ বিঘা জমিতে নতুন একটি কনডোমিনিয়াম প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

 

Manual7 Ad Code

বিজয় রাকিন সিটির পাশেই ৩০ বিঘা জমির ওপর নাভানা রিয়েল এস্টেট কনডোমিনিয়াম প্রকল্প করছে। সেখানে ৫২ শতাংশ জায়গা ছেড়ে দিয়ে ১ হাজার ৪৭৫ ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে তারা। সেখানে বাচ্চাদের খেলার জায়গা থেকে শুরু করে হাঁটার জায়গা, সুইমিংপুল ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা তো থাকছেই। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে মিরপুর-১১ তে ১০ বিঘা ও মোহাম্মদপুরে ৬ বিঘা জমির ওপর নতুন প্রকল্প করছে।

Manual3 Ad Code

 

নাভানার উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবার, বিশেষ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা তাঁদের বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ, নিজের জন্য হাঁটার জায়গা কিংবা সুইমিংপুল চান। সেগুলো এক জায়গায় দিতে হলে কনডোমিনিয়াম ছাড়া সম্ভব নয়। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মানুষ এমন কনডোমিনিয়াম প্রকল্পে স্বচ্ছন্দে বসবাস করছেন।

 

জাকির হোসেন আরও বলেন, কনডোমিনিয়ামের জন্য বড় জমি দরকার। সে জন্য কয়েকজন জমির মালিক সম্মিলিতভাবে আবাসন প্রতিষ্ঠানের কাছে আসতে পারেন। তা ছাড়া সরকার পূর্বাচলের যেসব জায়গা এখনো বরাদ্দ দেয়নি, সেগুলোতে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কনডোমিনিয়াম প্রকল্প করতে পারে।

 

মিরপুর মাজার রোডে ৭০ কাঠা জমিতে শেল্‌টেক্ বীথিকা নামে নিজেদের প্রথম কনডোমিনিয়াম করেছে শেল্‌টেক্। সেখানে ফ্ল্যাট রয়েছে ১৮৪টি। এ ছাড়া মালিবাগে ৩৭ কাঠা জমির ওপর শেল্‌টেক্ এনক্লেভ টাওয়ার নামে আরেকটি কনডোমিনিয়াম করছে। সেখানে ১৩৫টি ফ্ল্যাট হবে। বাড্ডায় ৪৮ কাঠার ওপর রেণু কবির টাওয়ার নামের কনডোমিনিয়াম প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সেখানকার ১১৫টি ফ্ল্যাটের বিক্রি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চতুর্থ কনডোমিনিয়াম প্রকল্পটি হবে পান্থপথে।

উদ্যোক্তারা জানান, বাড়তি সুযোগ-সুবিধার কারণে কনডোমিনিয়ামের খরচ খুব বেশি বাড়ে না। তবে জমির দামের কারণে ফ্ল্যাটের মূল্য ওঠানামা করে। মিরপুরের মাজার রোডে বীথিকার ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ৬ হাজার ৫০০ টাকা। আবার মগবাজারে এবিসির দ্য ওয়েসিসে ফ্ল্যাটের দাম সাড়ে ১১ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা।

 

জানতে চাইলে শেল্‌টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সেরাজ বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের জন্য সরকার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে পারে। এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ভর্তুকি দিলে ক্রেতারা সরাসরি উপকৃত হবেন। আবার করছাড় দিলে ব্যবসায়ীরাও উৎসাহিত হবেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হলে কনডোমিনিয়াম প্রকল্প আরও বেশি বেশি হবে।

 

রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, কনডোমিনিয়াম প্রকল্প খণ্ড খণ্ড জমি একসঙ্গে করেই করতে হবে। সে জন্য রাজউককে উদার হতে হবে। কারণ, খণ্ড খণ্ড জমি একসঙ্গে করে প্রকল্প করা বর্তমানে অনেক জটিল। এ ছাড়া সরকার যদি সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো আবাসন প্রতিষ্ঠানকে জমি দেয়, তাহলে আরও কনডোমিনিয়াম প্রকল্প হবে। তাহলে মধ্যবিত্তের আবাসন সমস্যার সমাধান করা যাবে।

Manual1 Ad Code

 

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code