জর্জিয়ায় বিক্ষোভ দমনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

Manual1 Ad Code

ইউরোপ ডেস্ক: জর্জিয়ায় গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে সরকার।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্তে রাজধানী তিবলিসির সড়কে নেমে আসা বিক্ষুব্ধ জনতাকে দমনে ব্যবহৃত জলকামানে ওই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে সময় আক্রান্ত এক বিক্ষোভকারী বিবিসিকে বলেন, পানিটা গায়ে পড়লে জ্বালা করছিল, যা সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে উপশম করাও সম্ভব হয়নি। আক্রান্ত বিক্ষোভকারীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শ্বাসকষ্ট, কাশি, বমির উপসর্গের কথাও জানিয়েছেন। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনীর হুইসলব্লোয়ার এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী কিছুদিন ব্যবহৃত রাসায়নিক, যা ফরাসি সেনাবাহিনী “ক্যামাইট” নামে চিহ্নিত করেছিল, সেই রাসায়নিকের ব্যবহারের আলামত পাওয়া গেছে।

Manual3 Ad Code

অবশ্য জর্জিয়ার কর্তৃপক্ষ বিবিসির অনুসন্ধানকে “অবাস্তব” প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, পুলিশ কেবল “বর্বর অপরাধীদের বেআইনি কার্যক্রমের” বৈধ জবাব দিয়েছে। ক্যামাইট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল ফ্রান্স। এরপর তা ব্যবহারের তেমন কোনও নথি নেই। ধারণা করা হয়, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ১৯৩০ এর দশকে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ক্যামাইটের পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয় সিএস গ্যাস, যা ‘টিয়ার গ্যাস’ নামে পরিচিত। গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিক্ষোভ শুরুর সময় তিবিলিসিতে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে উপস্থিত ছিলেন কনস্তান্তিন চাকুনাশভিলি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণায় জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে, যদিও ইইউতে যোগদানের বিষয়টি জর্জিয়ার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত। পুলিশ জলকামান, পিপার স্প্রে এবং সিএস গ্যাসসহ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সব পদ্ধতি ব্যবহার করে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code