জলবায়ু পরিবর্তনে দেশে বিষাদ ও উদ্বেগ বাড়ছে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

বিশ্বব্যাংকের এ-দেশীয় পরিচালক মার্সা টেম্বোন বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে অরক্ষিত দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করছে। তবে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের আরও শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে হবে, যেন জলবায়ু সম্পর্কিত রোগের প্রকোপ প্রতিহত করা যায়।

বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় ১৯০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আবহাওয়া, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা ২০১৯ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর এবং ২০২০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকার ৩ হাজার ৬০০ খানার ওপর জরিপ করেছে। গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরিচালন কর্মকর্তা ইফ্ফাত মাহমুদ ও গবেষক রাফি হোসাইন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, গবেষণা প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের হলেও এর বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ে নীতি প্রণয়নে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Manual6 Ad Code

বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশের ১৬ শতাংশ মানুষ বিষাদগ্রস্ত। আর মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশ উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠায় ভোগে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মানুষ বর্ষার চেয়ে শুষ্ক মৌসুমে বেশি বিষাদগ্রস্ত থাকে। কম পরিমাণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে বিষাদগ্রস্ততার আশঙ্কা কমে যাওয়া।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় দেশের মানুষ বর্ষা মৌসুমে বেশি উদ্বেগে থাকে। গড় আর্দ্রতা বাড়লে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ উদ্বেগ বেড়ে যায়। আর গড় তাপমাত্রা বাড়লে উদ্বেগ বাড়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

গবেষকেরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মৌসুমের প্রভাব আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের মধ্যে বিষাদ ও উদ্বেগ বাড়ছে। বয়স, লিঙ্গ ও স্থান ভেদে এর তারতম্য আছে।

Manual3 Ad Code

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার বলেন, অনিশ্চয়তা থাকলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। আর দুঃখবোধ থেকে জন্ম নেয় বিষাদ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেকের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসছে, অনেকের জীবনে অনিশ্চয়তা। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

Manual3 Ad Code

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশা বা মশার মতো কীটপতঙ্গের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ২৪ দশমিক ৫ রোগ হয় কীটপতঙ্গের কারণে। শুষ্ক মৌসুমে এই হার ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কীটপতঙ্গবাহিত রোগের প্রকোপ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে বেশি দেখা গেছে।

অন্যদিকে বর্ষার চেয়ে শুষ্ক মৌসুমে পানিবাহিত রোগ বেশি হয়। শ্বাসকষ্টজনিত রোগও শুষ্ক মৌসুমে কিছু বেশি থাকে। গবেষকেরা বলছেন, আর্দ্রতা ও গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। দেশের অন্য এলাকার তুলনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে শুষ্ক মৌসুমে শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এর কারণ সম্ভবত এই দুই এলাকায় বায়ু দূষণ বেশি।

বাংলাদেশ ছিল ছয় ঋতুর দেশ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুর পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১৯০১ সালের চেয়ে ২০১৯ সালের গ্রীষ্মকাল ছিল বেশি গরম ও বেশি দিন স্থায়ী। অন্যদিকে শীতকাল কম স্থায়ী এবং তাপমাত্রা বেড়েছে। গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ বর্ষা মৌসুম দীর্ঘ হতে দেখা যাচ্ছে।

গতকালের অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সালিমুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে। কিন্তু বৈশ্বিক গবেষণায় বাংলাদেশি গবেষকদের নাম কম দেখা যায়। এই ধারার পরিবর্তন হওয়া দরকার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code