

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানিকে (এএফডি) ‘নিশ্চিত উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দলটি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বার্লিন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। এএফডির একজন মুখপাত্র জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোলোনের প্রশাসনিক আদালতে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি’র এই ‘শ্রেণিবিন্যাসের’ বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ দাখিল করা হয়েছে।
গত শুক্রবার গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি জানায়, তারা এএফডিকে ‘নিশ্চিত উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করছে। সংস্থাটি দলটির নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক, সংখ্যালঘুবিরোধী, ইসলামভীতি ও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য’কে এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে। এই শ্রেণিবিন্যাসের ফলে সরকার দলটির ওপর নজরদারি জোরদার করতে পারবে, যেমন ফোনে আড়ি পাতা বা গোপন গোয়েন্দা নিয়োগ করা। এটি দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ফের উস্কে দিতে পারে।
বিএফভির এই পদক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কয়েকজন সদস্য এএফডির পক্ষে অবস্থান নেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এএফডি হলো ‘জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’। ট্রাম্পের মতো এএফডিও অভিবাসনবিরোধী অবস্থান থেকে প্রচারণা চালিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গোয়েন্দা সংস্থার সিদ্ধান্তকে ‘ছদ্মবেশী স্বৈরশাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জার্মানির উচিত এই পথ থেকে সরে আসা।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে এএফডি প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়। শীর্ষে ছিল কনজারভেটিভ সিডিইউ-সিএসইউ জোট, যারা প্রায় ২৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে এএফডি’র প্রতি সমর্থন রেকর্ড ২৬% এ পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির আগাম নির্বাচনের পর থেকে অভিবাসন বিরোধী এই দলটি পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট লাভ করেছে, যা প্রথমবারের মতো জার্মানির সবচেয়ে শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘ফোর্সা’র সর্বশেষ জরিপে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সিডিইউ/সিএসইউ ২৪% সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জয়ের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ পয়েন্ট কম তাদের। এছাড়া তাদের জোটের অংশীদার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) ১৪% পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা তাদের নির্বাচনের ফলাফলের তুলনায় ২ শতাংশেরও বেশি পয়েন্ট কম।
Desk: K