জুতা সারানোর দায়িত্ব আমার কাছে গর্বের

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া রেইলগেট। এখানের প্রতিদিন যে ভিড়, যে হইচই, তার মাঝেও; একটি মানুষ নিজের ছোট্ট পৃথিবীতে ডুবে থাকে। যেন চারপাশের কোলাহল আর ট্রেনের শব্দ তার কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। মানুষের নষ্ট স্যান্ডেল, ছেঁড়া জুতা, খুলে যাওয়া সোল এসবই তার কাছে গল্পের খাতা। আর সেই গল্প লিখে দেন তিনি সুই-সুতো আর আঠার ছোঁয়ায়। নাম তার শিবু। পেশায় একজন জুতার কারিগর। বয়স ৫৫, কিন্তু কাজের অভিজ্ঞতা টানা ৪২ বছরের। এই মহল্লার রাস্তাঘাটের সঙ্গে বহুদিনের বন্ধুত্ব তার। সেদিন রাতে বাসায় ফেরার পথে জুতার সোল যায় খুলে। রাত তখন প্রায় এগারোটা। কোথাও দোকান খুঁজে না পেলেও রেইলগেটের এক কোণে আপন মনে কাজ করছিলেন শিবু। কাছে যেতেই হাতের কাজ সেরে সেলাইয়ের কাজটি করে দেন। কথার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সকাল দশটা থেকে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। মাঝে দুপুরে কিছু সময়ের জন্য বাসায় যান।’ দোকান বলতে চারপাশ জুড়ে কাঠের বোর্ড। বোর্ডে ঝুলছে বিক্রি উপযোগী কিছু জুতা। আর আছে জুতা মেরামতের আসবাবপত্র। এই তার রাজত্ব। মানুষ আসে, জুতা দিয়ে যায়, কেউ দাঁড়িয়ে দেখে আবার কেউ তাড়াহুড়োয় চলে যায়। কিন্তু শিবু ঠিকই নিজের গতিতে কাজ করেন। নেই তাড়াহুড়ো, নেই অভিযোগ। শিবু বলছিলেন, ‘এই কাজটা আমার রক্তেই আছে। আমার নানা জুতার কাজ‌ করতেন। তার পাশে বসে বসেই শিখেছি সব।’ কথাটা বলতে বলতে তার চোখে যেন ঝিলিক খেলে গেল। ছোটবেলায় নানার দোকানের গন্ধ, চামড়া, আঠা, রং সবই তাকে টেনে নিয়ে যেত কাজ শেখার দিকে। ‘তখন তো আর মোবাইল- টোবাইল ছিল না, সারাদিনই খেলাধুলা আর দোকানে বসা। ধীরে ধীরে হাত পাকে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code