টিআইএনধারীদের অর্ধেকের বেশি আয়কর রিটার্ন জমা দেননি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

দেশে বর্তমানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ই-টিআইএন) সংখ্যা ৪৬ লাখের ওপরে। সব ই-টিআইএনধারীরই প্রতি বছর তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব বা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এর মধ্যে যাদের করযোগ্য আয় আছে, কেবল তাদেরই আয়কর জমা দিতে হয়। গত ১ ডিসেম্বর রবিবার ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ প্রাথমিক হিসাবে দেখেছে, রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ২২ লাখেরও কম। অর্থাত্, ই-টিআইএনধারীর মধ্যে অর্ধেকও তাদের আয়কর বিবরণী জমা দেন নি।

 

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বিভিন্ন আলোচনায় জানিয়েছিলেন, গত করবর্ষে রিটার্ন জমা হয়েছিল ২২ লাখ। সেই হিসেবে রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা এবার বাড়েনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থদণ্ড রয়েছে। তা সত্ত্বেও করদাতার সংখ্যা না বাড়ায় চিন্তিত খোদ এনবিআর। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কর কর্মকর্তাদের যথাযথ ভূমিকার ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে করদাতাদের মধ্যে করভীতি থাকায়, বাধ্য না হলে তারা করের আওতায় আসতে চাইছেন না।

Manual8 Ad Code

 

এনবিআরের কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করদাতাদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে না পারায় পরবর্তীতে জমা দেবেন বলে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা লক্ষাধিক। তাদেরকে সম্ভাব্য রিটার্ন দাখিলকারী হিসাব করেই মূলত সংখ্যা প্রায় ২২ লাখে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে গত বছর ২২ লাখ বলা হলেও এই সংখ্যা আসলে ২০ লাখের মতো ছিল। সেই হিসেবে এবার রিটার্ন দাখিলকারী বেড়েছে। সূত্র জানিয়েছে, গত বছর আয়কর দিবস পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে কর আদায় হয়েছিল ২১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। আর এবার কর আদায় হয়েছে ২৪ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। কর আদায় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। অবশ্য এনবিআর আশা করছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ২৩ লাখ হতে পারে।

Manual4 Ad Code

 

এর আগেও ম্যানুয়াল পদ্ধতির টিআইএনের ক্ষেত্রে অনেকেরই বছর শেষে রিটার্ন জমা দিতেন না। ঐসব টিআইএন বিভিন্ন প্রয়োজনে নেওয়া হতো, কিংবা ভুয়া টিআইএনও থাকত। ম্যানুয়াল পদ্ধতির হওয়ায় ঐসব ব্যক্তিকে শনাক্তও করা যেত না। টিআইএনধারীদের শনাক্ত করার কাজটি সহজ করতে অনলাইন ব্যবস্থায় টিআইএন বা ই-টিআইএন প্রদানের কার্যক্রম শুরু করে এনবিআর। এতে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত করা হয়। ফলে এক ব্যক্তির একাধিক টিআইএন নেওয়া রোধ করার পাশাপাশি তাকে শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করেছিল এনবিআর। তবে বাস্তবে সেটি সম্ভব হয়নি।

 

Manual1 Ad Code

এর কারণ ব্যাখ্যা করে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, দুই বছর আগে এনবিআর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা হলে তাদের টিআইএন নিতে হবে। এর ফলে বিশাল সংখ্যক লোক টিআইএন নিতে হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে বড়ো অংশেরই করযোগ্য আয় নেই। ফলে তারা রিটার্ন দিচ্ছে না। আবার টিআইএনধারীদের মধ্যে একটি অংশ মারা গেছেন, কিন্তু তাদের টিআইএন বন্ধ হয়নি। কেউ চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন কিংবা কারো ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। ফলে তাদের রিটার্ন জমা হচ্ছে না কিন্তু হিসাব থেকে টিআইএন বাদ যায়নি। অন্যদিকে জমি নিবন্ধন, ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে বাধ্য হয়ে টিআইএন নিয়েছেন—তারা রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না। এসব কারণে টিআইএন ও রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে ব্যবধান রয়ে গেছে। তবে তিনি মনে করেন, চাইলে রিটার্ন না দেওয়া টিআইএনধারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

 

Manual6 Ad Code

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, বেশকিছু খাতের কার্যক্রমে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু তাদের রিটার্ন জমায় যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে টিআইএনধারীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমেইল বা অন্য উপায়ে যোগাযোগ করা গেলে তাদের মধ্যেও রিটার্ন জমা দেওয়ার দায়বদ্ধতা তৈরি হতো। তবে অনেকেই বিভিন্ন কারণে উেস কর দিচ্ছেন কিন্তু টিআইএন না থাকায় তারা করদাতা হিসেবে হিসাবভুক্ত নন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code