

সিলেট অফিস
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিমালা ঘোষণা করেছেন সিলেট মেট্রপলিটন পুলিশের নবাগত পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।
চলতি মাসের ১০ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা ও দিয়েছেন তিনি। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সিলেট মেট্রোপাল্টন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মি রায় প্রতি মাসে আইনশৃঙ্খলার প্রত্যেকটি সভায় মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যুব সমাজকে রক্ষার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিজ নিজ সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকরা সচেতন হওয়ার কথা ও বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরাও এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিন্তু কিছুতেই থামছে না মাদকের ভয়াবহতা । এস এম পি ‘র দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ, এসএমপির ডিবি পুলিশ , র্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নিয়মিতভাবেই অভিযান পরিচালনা করে আসছে মাদকের বিরুদ্ধে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ও রয়েছে । তাদের কার্যক্রমে কিন্তু দৃশ্যমান কোন দেখা যায় নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কাছ থেকে মানুষ যেভাবে আশা করে তা দিতে পারছে না তারা এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।।
এক মাদক ব্যবসায়ীর নিজ ঘর থেকে এস এমপির দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের অভিযানে জব্দ হয়েছে মাদকের একটি বড় চালান। ঘটনায় জড়িত এক মাদক সম্রাট কে তার স্ত্রী সহ আটক করেছে পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমা থানাধীন হিলু রাজীবাড়ি সাকিনস্থ সমুজ আলীর বসতবাড়িতে টিনশেডের ঘরে মাদকের গোডাউন এর সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ১৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালায় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান।তাকে সহযোগিতা করেন থানা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক অমিত সাহা। তিনিও মাদকবিরোধী অভিযানে দক্ষ বলে জানা গেছে।
অভিযানে পুলিশের খাতায় একাধিক মাদক মামলার আসামি মাদক সম্রাট সবুজ আলী (৫০) কে তার স্ত্রী হাসনা বেগম (৪০)সহ আটক করা হয়। এসময় তাদের হেফাজতে থাকা টিন শেডের মাদকের গোডাউন থেকে ৩৩৫ বোতল ব্রান্ডের বিদেশী মদ জব্দ করে পুলিশ। যার পরিমাণ ৯০,১ লিটার। এবং এগুলোর বাজার মূল্য তিন লক্ষ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীরাঃ ১। সমুজ আলী (৫০), পিতা-মৃত তবারক আলী, ২। হাসনা বেগম (৪০), স্বামী-সমুজ আলী, উভয় সাং- হিলু রাজীবাড়ি, থানা-দক্ষিণ সুরমা, জেলা-সিলেট। উক্ত ঘটনার বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং- ১৬, তারিখ:১৮/০৯/২০২৫খ্রিঃ, ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর সারণী ২৪ (খ)/৩৮/৪১ রুজু হয়েছে।
, এদিকে পুলিশের সিডিএমএস পর্যালোচনায় আসামী সমুজ আলী (৫০) এর বিরুদ্ধে ১। দক্ষিণ সুরমা খানার মামলা নং-২৩, তারিখ-১৭/০৫/২০২৩, ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) এর সারণী ২৪(খ), ২। দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০৩/০৪/২০২৫, ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬(১) এর সারণী ২৪(ক) ও ৩। দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা নং-২৪, তারিখ-২৯/১০/২০২০, ধারা-২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬ (১) এর সারণী ২৪(খ) মামলা সমূহ বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন পাওয়া যায়।
দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, সিলেট মেট্রোপলটন পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকবিরোধী অভিযান চলছে এটি অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা অজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত( ডিসি) সাইফুল ইসলাম ।
তিনি জানান, সিলেট মেট্রোপাল্টন পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল থানায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে চুরি, ছিনতাই রোধ, মাদককে জিরো টলারেন্স নীতিমালায় নবাগত পুলিশ কমিশনার এর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। নগরবাসীকে অপরাধীদের কবল থেকে মুক্ত করতে নবাগত পুলিশ কমিশনার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ ফুলর এ প্রতিবেদককে জানান, আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিতই আলোচনা হচ্ছে। আমরা আগামী সভায় আরও বিস্তর আলোচনা করবো।মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তোলা উচিত।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক , বাংলা নিউজ ইউ এস ডট কমের ক্রাইম এডিটর, সাংবাদিক এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া বলেন, জন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ সুরমা কে মাদক মুক্ত করতে প্রশাসন যেন জনবল বৃদ্ধি করেন।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় কে কার্যকর করা হয়।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আদালতে সোপর্দ করে জামিনের সুযোগ করে না দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মেয়াদী সাজা দেয়া সিস্টেম চালু ও জরুরী।
প্রশাসনের যাদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের কানেকশন রয়েছে , মুনাফা পাচ্ছে, অবৈধ ইনকাম করে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে এদের বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারী জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, গরিব লোক কাজ( শ্রম দিয়ে) করে খায়, অসামাজিকতা করে না, অশ্লীলতা করে না, একমাত্র যুব সমাজের মধ্যে গ্রাম পর্যায়ে মাদক ডুকে যাওয়ার কারণে মাদকাসক্ত যুব সমাজ রাস্তাঘাটে আমাদের মা বোনদের ইজ্জতে আঘাত করছে । মাদকের টাকা যোগান দিতে বিভিন্ন রকম অপরাধে জড়াচ্ছে। মার্ডারের মত অপরাধ, ধর্ষণের মতো অপরাধ করতেও দ্বিধা করছে না। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান নেয়া প্রশাসনের কাছে এখন আমাদের সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম থানা যেখানে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে সরকারের বিভাগীয় পর্যায়ের বড় বড় দপ্তর সমুহের অনেক ব্যস্ততম দপ্তর রয়েছে। মাদক পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে রেলপথ, সড়ক পথ এমনকি অন্য এলাকায় অবস্থান নিয়ে নৌপথ ব্যবহার করতে পারে মাদক ব্যবসায়ীরা । এ কারনে মাদক নির্মূল করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে ও।
তাই জনবল সংকট নিরসন করে প্রশাসনকে আরো শক্তিশালী করে দক্ষিণ সুরমার মাদকের ঘাটি নির্মূল করা সচেতন মহলের এখব সময়ের দাবী।