ডাকাতিয়া নদীর কচুরীপানায় হুমকীর মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual7 Ad Code

 

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:
সিআইপি’র অভ্যন্তরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রবাহমান ডাকাতিয়া নদীর পানি পঁচে গেছে। নদীতে মাছ মরে ভেসে উঠা সহ প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে নদীর দু’পাড়ে। হুমকীর মুখে পড়েছে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন। নদীতে জমাট বাঁধা কচুরীপানা পঁচে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীকে কেন্দ্র করে জীবন-জীবীকা নির্বাহকারী জেলে-মৎস্যজীবীরা পড়েছে খুবই বিপাকে। এ অবস্থার অবসানের জন্য আন্দোলনে করছেন মৎস্যজীবী সমিতি ও সামাজিক আন্দোলনের নামে বিভিন্ন সংগঠন।

Manual8 Ad Code

বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, সভা, সেমিনার করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে নদীর কচুরীপানা পরিষ্কারের স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সামাজিক আন্দোলন সংগঠনের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাকাতিয়া নদীর দুই তৃতীয়াংশ রায়পুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। উন্মুক্ত ডাকাতিয়ার দুই তীরে লক্ষ মানুষ ও হাজার হাজার জেলে-মৎস্যজীবী আবহমান কাল থেকে নদী ব্যবহার ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বাঁধের ফলে ডাকাতিয়া নদীতে প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ হলেও ডাকাতিয়া একটি উন্মুক্ত জলমহাল। উন্মুক্ত জলমহাল ইজারা দেওয়ার বিধান না থাকায় মহল বিশেষ ডাকাতিয়া নদীর প্রকৃতি পরিবর্তন করে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ইজারা নেওয়ার হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। মহল বিশেষের হীন চক্রান্ত বাস্তবায়িত হলে জীবিকা হারাবে হাজার হাজার জেলে মৎস্যজীবি, নদী ব্যবহারের অধিকার হারাবে দুই তীরের লক্ষ মানুষ যা কোনোভাবেই জেলে-মৎস্যজীবি ও নদীর দুই তীরের মানুষ মেনে নেবে না।

Manual8 Ad Code

ডাকাতিয়া নদীতে একসময় প্রাকৃতিকভাবে শিং, মাগুর, কৈ, টেংরা, একাধিক প্রজাতির পুঁটি, কাইক্কা, বাইম, মলা-ঢেলা, চান্দা, পাপদা, পলি, পলি বইচা, কুলি, চাপিলা, বাইলা, গজার, শোল, খলিসা, টাকি, গনিয়া, চীতল, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিংড়ি, আইড়সহ প্রায় ৩০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। সেই ডাকাতিয়া এখন বছরের বেশীর ভাগ সময়ে মাছ শূন্য থাকে। এর মূল কারণ, প্রতিবছর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট কচুরীপানা এবং নদীর দুই তীরের চরসমূহ থেকে বিপুল পরিমাণ কচুরীপানা নদীতে ছাড়া হয়। নদীর অসংখ্য বাঁক এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ থাকার কারণে শ্রোতের টানে কচুরীপানা বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে বছরে কয়েক দফা জমাট বাঁধা কচুরীপানা পঁচে মাছের মড়ক লেগে ডাকাতিয়া মাছশূন্য হয়ে পড়ে এবং পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ডাকাতিয়া নদীকে সারাবছর পরিস্কার রাখা গেলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছ উৎপন্ন হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং এই অঞ্চলের আমিষের চাহিদা পূরণে ডাকাতিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Manual5 Ad Code

অভিজ্ঞতায় বলা যায়, ডাকাতিয়া নদীর কচুরীপানা পরিস্কার রাখা জেলে-মৎস্যজীবি ও দুই তীরের জনগণের সাধ্যের অতীত। এর জন্য প্রয়োজন যথাযথ সরকারি উদ্যোগ। তাই ডাকাতিয়া নদীকে কচুরীপানা মুক্ত রাখতে টি.আর. কাবিখা-কাবিটার মতো স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ জানান, ডাকাতিয়া নদীর কচুরীপানার কারণে মরে যাচ্ছে মাছ, তেমনি হুমকীর মুখে পড়েছে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবন। সামাজিক আন্দোলনের দাবী যোক্তিক। কচুরীপানা পরিষ্কার করা হলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছ উৎপন্ন হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা করা হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code