ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা নজরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র: স্টেট ডিপার্টমেন্ট

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual1 Ad Code

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যে মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি এই মামলার রায়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেসব সমালোচনা হচ্ছে তার ওপরও নজর রেখেছে দেশটি। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নতুন বছরের প্রথম দিন নোবেলজয়ী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পাওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সাজার রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া কী? বাংলাদেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সৃষ্ট চ্যালেঞ্জকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কীভাবে দেখে? বিশেষ করে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ১০ বছরের কারাদণ্ড; অসংখ্য বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মীদের একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কীভাবে দেখে?

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই রায়ের বিপরীতে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনা আমাদের নজরে এসেছে।’

ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের তরফ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনিপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য উৎসাহিত করছি। আমরা এ বিষয়ে যেকোনো পরবর্তী ঘটনা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করে যাব।’

অপর এক প্রশ্নে বলা হয়, এ সপ্তাহের শেষ দিনে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ডামি প্রার্থী ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্য নির্দেশনা দিয়েছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন তিনি। মার্কিন সরকার কি এমন একটি ডামি নির্বাচনকে বৈধতা দেবে? যদি তা না হয়, তবে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের আগামী সরকারের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করছে? গত সপ্তাহান্তে বিবিসি ‘বাংলাদেশ: যে নির্বাচন এক নারীর প্রদর্শনীতে পরিণত হয়েছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেছে।

Manual8 Ad Code

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুখপাত্র বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর আগেও দিয়েছি। কিন্তু নতুন বছর হওয়ায় আমি আবার উত্তর দেব। আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সমর্থন করি। আমরা এই বিষয়টি আগেও একাধিকবার নিশ্চিত করেছি।’

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের নির্বাচনের পরে কী ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নেবে সেই বিষয়ে ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘আমরা নিবিড়ভাবে এ নির্বাচনের দিকে নজর রাখব। তবে এসব ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায় আমরা কোন ধরনের পদক্ষেপ নেব বা নেব না সে বিষয়ে আমরা কোনো অগ্রিম অনুমান দেব না।’

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা এক মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ চারজনকে গত ১ জানুয়ারি ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code