তারুণ্যের চোখে বঙ্গবন্ধু

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে মুজিব জন্মশতবর্ষ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ এই দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রজীবন থেকেই যিনি ছিলেন অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অগ্রভাগের অতিপরিচিত একটি মুখ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন একাধিক আন্দোলনের। জেলে গিয়েছেন অনেকবার, আবার বাংলার মানুষ তাকে মুক্তও করেছে। যার চোখেই দেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙালি দেখেছিল একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন, ঝাঁপিয়ে পড়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধে—তিনিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তার সংগ্রামী জীবন প্রতিটি প্রজন্মের কাছে এক আদর্শ, তার প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। আজ আমরা কথা বলেছি এমনই কিছু তরুণের সঙ্গে। জানতে চেয়েছি তাদের ভাবনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সম্পর্কে।

জাতির জনকের সংগ্রামী জীবন থেকে ২১ শতকের তরুণ প্রজন্মের ধারণ করার মতো আছে অনেক কিছুই। বঙ্গবন্ধুর জীবনী আমাদের প্রজন্মকে শিক্ষা দেয় অনেক বাধা-বিপত্তির মাঝেও সততা এবং সাহসিকতায় অটল থাকতে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্পষ্টভাষী। আমরা আজকাল spade-কে spade বলতে দ্বিধা করি। ১৯৪৪ সালে বঙ্গবন্ধু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ছাত্রলীগে কাজ করেছেন এবং উনার ভক্ত ছিলেন। এক মিটিংয়ে শহীদ সাহেবের ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও উনার এক প্রস্তাব পছন্দ না হওয়ায় বঙ্গবন্ধু অমত করেছিলেন। শহীদ সাহেব বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘Who are you? You are nobody.’ বঙ্গবন্ধু উত্তর দিয়েছিলেন, ‘If I am nobody then why you have invited me? You have no right to insult me. I will prove that I am somebody. Thank you, Sir. I will never come back again (অসমাপ্ত আত্মজীবনী)।’ এবং তিনি মিটিং ছেড়ে বের হয়ে এসেছিলেন। যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কারো সামনে বঙ্গবন্ধুর স্পষ্টভাষিতা আমাদের প্রজন্ম ধারণ করতে পারে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলার কৃষক-মজুর ও দুঃখী মানুষের সকল দুঃখের অবসান হবে।’ অতি সাধারণ জীবন যাপন এবং শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষকে কাছে টেনে নেওয়া ও ভালোবাসার শিক্ষাটা আমরা ধারণ করতে পারি জাতির জনকের জীবনী থেকে, যা একুশ শতকে দুর্লভ।

—শিব্বির আহমেদ

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

Manual7 Ad Code

০০০

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টির সাথে অবিভাজ্যভাবে জড়িয়ে আছে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, সামরিক শাসনবিরোধী বক্তব্য প্রদান, ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, বাঙালির স্বাধীনতার ঘোষণা প্রভৃতি ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। ইতিহাস যেমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করে, নেতৃত্বও তেমনি ইতিহাস সৃষ্টি করে। মূলত বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে বঙ্গবন্ধুর।

Manual3 Ad Code

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও আদর্শ আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় এক আদর্শ। ভ্রাতৃত্ববোধের মর্মবাণী, নিজ নিজ অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়া, সুস্থভাবে বাঁচার দাবি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা, স্বদেশপ্রেম কিংবা দেশরক্ষার জন্য নিজেকে উত্সর্গ করার মতো শিক্ষা আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকেই পাই। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়তে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কাঙ্খিত স্বাধীনতাও অর্জন করতে পেরেছে। বলা হয়ে থাকে, ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে, স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।’ তাই আমাদের উচিত কষ্টার্জিত স্বাধীনতা রক্ষার্থে সোচ্চার হওয়া।

—নূরে জান্নাত বিনতে নাহার

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

০০০

বঙ্গবন্ধু বলতে সাধারণত আমরা ব্যক্তি মুজিবকে চিত্রায়িত করি। যিনি অসামপ্রদায়িক ও সংগ্রামী জীবনের প্রতীক। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন, কিন্তু আপোষ করেননি। বর্তমান সমাজে নিপীড়িত, অধিকারহীন মানুষ অগণিত। বঙ্গবন্ধু যেমন আমরণ নিপীড়িত ও শোষিত বাঙালির জন্য কাজ করেছেন, ঠিক তেমনি আমাদেরও আজীবন সাধারণ মানুষের অধিকারে কাজ করতে হবে। চিহ্নিত করতে হবে তাদের সমস্যা। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘তথ্যই সম্পদ’। সঠিক তথ্যই পারে সাধারণ মানুষের দ্রুত আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে। মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ উন্নত হলেই দেশ উন্নত হবে’। এই দীক্ষায় দীক্ষিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাজ করতে হবে। সমাজে নিশ্চিত করতে হবে সঠিক তথ্য প্রবাহ। তবেই দেশ উন্নত হবে, বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। কেননা শিক্ষার্থীরা জাতির মেরুদণ্ড। আজকে যে শিক্ষার্থী, কাল সে মন্ত্রী, সচিব অথবা বুদ্ধিজীবী হবে। শিক্ষার্থী হিসেবে তাই আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ তথা সমাজের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।

—রবিন হালদার

Manual5 Ad Code

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

০০০

বঙ্গবন্ধু, একজন আদর্শ নেতার নাম। ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন সাহসী ও স্পষ্টভাষী। শোষকদের প্রতি তিনি ছিলেন কঠোর। অন্যদিকে দেশের শোষিত সাধারণ মানুষের প্রতি ছিলেন কোমল। সারাটি জীবন তিনি দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। যার ফলে জীবনের ১৪টি বছর কারাবন্দী কাটিয়েছেন। এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের আদর্শে অটুট ছিলেন। তিনি ছিলেন অসামপ্রদায়িক চেতনার মানুষ। সকল ধর্ম, বর্ণ, পেশার মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে তার মতো যোগ্য একজন নেতার খুব প্রয়োজন ছিল। এমনকি আজকের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তার আদর্শগুলো ধারণ করা খুবই জরুরি। সত্যকে সত্য বলা এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলা শিখতে হবে আমাদের। দেশের শ্রমিক মজুর, পিছিয়ে পড়া মানুষদেরকে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার দিয়ে সবাই একসাথে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই পাব আমাদের কাঙ্খিত সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code