

যুক্তরাষট্র সংবাদদাতা : বিশ্বব্যাপী বিরাজমান আর্থ-সমাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্থিরতা কাটিয়ে আদর্শ মানবজাতির জীবন গড়ার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা। কুরআনে কারীমের জীবন্ত মুজেজাকে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মুসলিম উম্মাহ অফ আমেরিকা (মুনা)-এর জাতীয় কনভেনশন ২০২৩। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে শান্তির ধর্ম ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেয়াই মূলত: এই কনভেনশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এবারের কনভেনশনের মূল প্রতিবাদ্য বিষয় ছিলো “আল কুরআন গাইডেন্স ফর হিউম্যানিটি”। আর তাই কনভেনশনে যোগদানকারী দেশী-বিদেশী স্কলারদের বক্তব্যে ফুটে উঠে মহা বিশ্বের বিস্য়কর কুরআনের অলৌকিক বিভিন্ন মুজেজার কথা। বক্তরা বলেন, ইসলামকে মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ইসলামের শান্তি বার্তা সবার মাঝে পৌঁছৈ দিতে হবে। তবে কনভেনশনে মুসলিম নতুন প্রজন্মদের জন্য দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা থাকলেও বাংলাদেশের রাজনীতির বিষয়ে ছিলো না কোন সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম।

ফিলাডেলফিয়ার পেনসেলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮,১৯ ও ২০ যথাক্রমে শুক্র শনি ও রোববার তিন’দিনব্যাপী কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ১৮ হাজারের মতো নর-নারী যোগ দেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে মহিলা ও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো।

প্রতিদিন থাকছে সমান্তরাল প্রোগ্রাম। ফলে ব্যতিক্রমী এই কনভেনশন ঘিরে ফিলাডেলফিয়া শহরের কনভেনশন সেন্টার ও তার আশপাশের এলাকা বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি এক খন্ড মুসলিম কমিউনিটিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে এবারের কনভেনশন আয়োজক কমিটির চমৎকার আয়োজন, ব্যবস্থাপনা, সুশৃংখল পরিবেশ সহ নানা আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে।
মুনা কনভেনশন ঘিরে মূলত: গত ১৭ বৃহস্পতিবার থেকেই জমে উঠতে থাকে পেনসেলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টার সহ আশপাশের এলাকার হোটেল। নিউইয়র্ক থেকে বাস ছাড়াও প্রাইভেট কার যোগে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহনকারী সপরিবারে এবারের কনভেনশনে অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম নরনারী প্রাইভেট কারযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন।
মুনা কনভেনশন ১৮ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজ দিয়ে শুরু হয়।প্রথম দিন ১ম পর্বে ছিল বিশ্বের বিভিন্ন ক্বারীদের কুরআন তেলাওয়াত। অংশগ্রহণকারীরা শুক্রবার সকাল থেকেই ফিলাডেলফিয়ায় সমবেত হতে থাকেন এবং আগে থেকে বুকিং দেয়া স্থানীয় ম্যারিট, শেরাটন,হিলটন প্রভৃতি হোটেলে রুম নেয়ার পর কনভেনশন সেন্টারে এসে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন বা পূর্বে রেজিষ্ট্রেশন করা তথ্যাদি কনফার্ম করেন। এদিন সন্ধ্যায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগত জানানো হয়। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। ফলে পেনসেলভেনিয়া কনভেনশন বিশাল হল রুম সহ পুরো ভবন জনার্কীণ হয়ে উঠে। সেই সাথে সাজানো-গোছানো সেন্টারে তথ্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে অংশগ্রহনকারীদের সুবিধার্থে সকল কেন্দ্র এবং নানা রকম স্টোরের দোকান বসানো হয়। আর ক্রমেই জমে উঠছে সবকিছু।

শনিবার সকাল ১১টায় মূল মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম। ‘আল কুরআন গাইডেন্স ফর হিউম্যানিটি’ শীর্ষক এই আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবারের কনভেনশন কমিটির চেয়ারম্যান আরমান চৌধুরী সিপিএ। ভারসাম্যপূর্ণ গাইড এর উপর আলোচনা করেন,মাওলানা মুছলেহ উদ্দিন ফারাজী, ইমাম দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা মাহমুদুল হাসান।”আল কুরআনের দিশারী যারা,আল্লাহ প্রিয় সফল তারা” এই বিষয়ের উপর আলোচনা রাখেন ইমাম আবুল ফয়জুল্লাহ,ড: আবদুস সালাম আজাদী ও ড: আবদুস সামাদ।শনিবারের কী-নোট সেশনে “আল কুরআন গাইডেন্স ফর হিউম্যানিটি” আলোচনা রাখেন ড: মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী,শায়খ আব্দুল নাসের জান্ডা,মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট হারুন অর রশীদ, ড: আলতাফ হোসাইন ও ড: ওমর সুলাইমান।
“অতুলনীয় জান্নাতের স্বপ্নচারণ” বিষয়ে আলোচনা রাখেন হাফেজ আবদুল্লাহ আল আরিফ, মাওলানা লুৎফুর রহমান সহ আরো অনেক। ইয়ূথদের বিভিন্ন সেমিনারে আলোচনা রাখেন মুনার সাবেক ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডাক্তার সাঈদুর রহমান চৌধুরী,আবু আহমদ নুরুজ্জামান, ড: জাহিদ বুখারী, ড: নকিবুর রহমান, শায়খ মাজিদ মাহমুদ ও আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।

এছাড়াও আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম ছিল শনিবারে।উপরোক্ত সেশন সমূহের মডারেটর ছিলেন যথাক্রমে: মাহমুদুল কাদির তাফাদার, ড: নাসের উদ্দিন, খায়রুল হাসান রফিক, ড: জাহাঙ্গীর কবীর, ড:শরীফুল ইসলাম, সাফায়েত হোসাইন সাফা, ড:মুহাম্মদ রুহুল আমীন, আহমদ আবু উবায়দা ও আরমান চৌধুরী।প্রোগ্রাম আজ রোববারও চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।