

ডেস্ক রিপোর্ট: বছরের প্রতিটা দিনই বুকিং কোনো না কোনো দিবসে। ক্যালেন্ডারকে চাইলেও আর ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। তেমনই আছে মজার একটা দিবস। যদিও দিবসটা শুধু কর্মজীবীদের জন্য। তবে আপনি চাইলে একে আনন্দের দিনও বলতে পারেন, আবার চাইলে নতুন করে কিছু ভাবার দিনও ভাবতে পারেন। ভাবার দায়টা আপনার কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে দিবসের দিকে এগোই। Leave the Office Early Day (লিভ দ্য অফিস আর্লি ডে)। মানে আজ তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বের হওয়ার দিন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী এ দিবস পালনের কিন্তু কোনো বালাই নেই। তবে উন্নত বিশ্বে এ দিবসগুলো মহা-সমারোহেই পালন করা হয়। তার কারণ, প্রত্যেকেই আমরা ভীষণ ব্যস্ত। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত মানুষগুলো। এই ব্যস্ততার যেন কোনো শেষ নেই। প্রতিদিন একই কাজ, নয়তো নিত্যনতুন কাজ। কাজ আসছে, জমা হচ্ছে, শেষ হচ্ছে। চাপ যেন দিনদিন বেড়েই চলেছে। এত কাজের মধ্যে অনেকেই বাড়তি হিসেবে পান সিনিয়রের ধমক, বসের আল্টিমেটাম!
শুধু কাজের কারণেই অনেকে আমরা বাড়ি পৌঁছাই দেরিতে। অনেকের তো এমনও হয়েছে যে ক্লান্তিতে খাওয়ার আগেই চোখে ঘুম নেমেছে। কারণ, পরদিন আবার সকালে উঠতে হবে। আবার অফিস, আবার কাজের চাপ! খেয়াল করে দেখুন, এর মাঝে অনেক দিন খোঁজ নেওয়া হয়নি পরিবারের। অনেক দিন চায়ের কাপে ঝড় ওঠেনি বন্ধুদের সঙ্গে। পরিবার, বন্ধু কিংবা আমাদের কাছের মানুষগুলো যখন আমাদের কাছে পাওয়ার জন্য ছটফট করে, তখন হয়তো আমরা মুখ ডুবিয়ে রেখেছি ফাইলে। যে সময় তারা আশা করেন তাদের ওপর আমাদের মনযোগ হয়তো পড়বে, সে সময় আমাদের নজরবন্দি অফিসের ডেস্কের ওপরে তিন ভাগের এক ভাগ জায়গা দখল করে থাকা মনিটরে!
বহুদিন কেটে গেছে, বিকেলটা আর ওভাবে দেখা হয় না। প্রকৃতিকে মুঠোয় নিয়ে ছোঁয়া হয় না। শেষ কবে সূর্যডোবাটা চোখ ভরে দেখা হয়েছে, মনে পড়ছে না। মস্তিষ্কের একপাশ যখন এসব ভেবে মন খারাপের প্রস্তুতি নেয়, অন্যপাশ তখন নীরবে চেঁচিয়ে উঠে বলে- ‘কাজ করেই কুল পাই না, প্রকৃতি বিলাসের সময় কই?’ সেই তো! সময় কই আমাদের? জীবনের নানান রং, সব রঙে আর পালা করে গা ভাসানো হয় না। জীবনের মানে কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ভেবেও হতাশ হয়ে যান অনেকে, বিষন্নতার মেঘ জমিয়ে কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কেউ তো আবার আফসোস করেন- ‘আহারে কতদিন অবসর মেলে না!’