‘ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
খুলনার পাইকগাছায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমা প্রবল জোয়ারে পানির চাপে ২৭ কিলোমিটার ওয়াপদার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ। বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে এক কিশোরের বুকে লেখা নিবেদন ‘ত্রাণ নয় টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’। সকলের নজর কেড়েছে।
জানা যায়, বুধবার দুপুরের জোয়ারে উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভার প্রায় ২৭ কিলোমিটার ওয়াপদার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এলাকায় পানি প্রবেশ করে। যার মধ্যে সোলাদানা, দেলুটি, গড়ইখালী, লস্কর, রাড়ুলী, কপিলমুনি, লতা ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকা ভেঙ্গে ও ওয়াপদার বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সোলাদানা ইউনিয়নে সর্বাধিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস জানান, উপজেলায় ৬৬০ হেক্টর চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার চিংড়ি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলায় তেমন কোনো ফসল না থাকায় কৃষি ক্ষেত্রে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে দেলুটি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১ হেক্টর জমিতে লবণ পানি উঠে আউস ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। পাইকগাছা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. প্রশান্ত মন্ডল জানান, টেকসই বেড়িবাঁধের জন্য এ জনপদের মানুষ যুগ যুগ ধরে আবেদন-নিবেদন করে আসলেও অদ্যাবধি ওয়াপদার বাঁধ রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমনিভাবে সর্বসাধারণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে জান-মাল ও সম্পদের। কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে এক কিশোরের বুকে লেখা নিবেদন ‘ত্রাণ নয় টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’ ফেসবুকসহ এলাকায় ব্যাপক ভাবে আলোচনায় এসেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মতো ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিকভাবে সতর্কতার সাথে সবকিছু দেখা হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code