দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়ার মাত্রা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ২ মাস আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া আয়োজনের কয়েক ঘণ্টা আগে এসব মহড়ার মাত্রা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই মহড়াকে ‘অযথাযথ ও বৈরী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।সোমবার শুরু হওয়া বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার আগে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য দীর্ঘদিনের সামরিক জোট নিয়ে তাঁর ভিন্ন অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করেন।

Manual2 Ad Code

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট নন।তিনি বলেন, এসব মহড়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়—এর বড় একটি অংশের খরচ বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। একই সঙ্গে এসব মহড়া এমন একটি দেশের প্রতি  ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা’ দেয়, যে দেশ ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি এবং সম্মানজনক আচরণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে মহড়া বাতিল করার মতো সময় আর নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছেন।১১ দিনব্যাপী এই সামরিক মহড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের মার্কিন মিত্রদের নিয়মিত গ্রীষ্মকালীন মহড়ার অংশ। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।

এবারের যৌথ মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির সেনাসদস্য পাঠানোর বিষয়টিও রয়েছে।ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে এবং আগে জানানো পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুযায়ীই তা চলবে।

উত্তর কোরিয়া বরাবরই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে। পিয়ংইয়ং এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি বা আগ্রাসনের  ‘মহড়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকেই এ ব্যবস্থা চলে আসছে। ওই যুদ্ধ পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল।

Manual6 Ad Code

ট্রাম্প দীর্ঘদিনের সামরিক জোটগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলতে আগেও দ্বিধা করেননি। ন্যাটোর ক্ষেত্রেও তিনি একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধে পশ্চিমা মিত্ররা যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ায় তিনি তাদের সমালোচনা করেছেন।

রোববার এক পোস্টে ট্রাম্প এ বিষয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, সম্প্রতি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়া তাতে রাজি হয়নি।তবে উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ লিম উল-চুল এএফপিকে বলেন, যৌথ সামরিক মহড়া পুরোপুরি বাতিল না করে শুধু এর পরিসর কমানো হলে উত্তর কোরিয়া এটিকে তেমন অর্থবহ পদক্ষেপ হিসেবে দেখবে না।তিনি বলেন, ‘এ কারণে কিম জং উনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসবে কি না, সে বিষয়ে আমি সন্দিহান।’

Manual2 Ad Code

চলতি মাসে উত্তর কোরিয়া দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব উৎক্ষেপণকে ব্যাপকভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।এ ছাড়া শুক্রবার উত্তর কোরিয়া সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুশীলন চালানো হলে তারা ‘নতুন মাত্রার প্রতিরোধক্ষমতা’ দিয়ে জবাব দিতে পারে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code