

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রন্টে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতি ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। হুলিয়াইপোল নামের একটি গ্রাম থেকে ৮৪ বছর বয়সী পোলিনা প্লিউশ্চি তাঁর লাঠি ও অল্প কিছু সামগ্রী নিয়ে একটি উদ্ধার ভ্যানে চড়েন। তিনি জানান, ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রের হামলার ভয় এতটাই বেড়েছে যে নিজের বাড়ির উঠোনেও পা রাখা যায় না।
জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের দক্ষিণ ফ্রন্টে ইউক্রেনীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে বাকি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি মঙ্গলবার স্বীকার করেন, হুলিয়াইপোলের আশপাশে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দুই দিনে ইউক্রেনীয় বাহিনী অন্তত ছয়টি গ্রাম থেকে পিছিয়ে এসেছে।
যুদ্ধের প্রায় চার বছর পার হতে চললেও এখনকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উদ্ধারকর্মীদের মতে, ড্রোনের আধিক্য এবং তাদের নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযানও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফাইবার-অপটিক কেবল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ড্রোনগুলোকে রেডিও সিগন্যাল দ্বারা বাধা দেওয়া সম্ভব নয়, যা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত পোকরভস্ক শহরটি রুশ বাহিনীর হাতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি ২০২৪ সালের পর থেকে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে। ইউক্রেনীয় সেনারা স্বীকার করেছেন, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হুলিয়াইপোলে চার বছরের যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ স্পষ্ট পোড়া যানবাহন, গুলিবিদ্ধ দেয়াল ও ধসে পড়া ভবন যেন যুদ্ধের নির্মম চিত্র বহন করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ঝান্না পুজানোভা বলেন, “ঔষধ পাওয়া যায় না, পানি নেই, এমন অবস্থায় আর বাঁচা সম্ভব নয়।”
নিরুপায় এই মানুষগুলো শুধু প্রার্থনা করছেন যেন তাঁদের ঘরবাড়ি এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণেই থাকে।