দূর্গম চরের কেউ নেই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায়

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী):
করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের তালিকায় স্থান পায়নি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দূর্গম চর কুশাহাটার কোন পরিবার। এই চরে শতাধিক পরিবারে সহ¯্রাধিক মানুষের বসবাস। মৎস্য শিকারের পাশাপাশি কৃষি কাজ এখানকার বাসিন্দাদের পেশা। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ট্রলার ও হাট-বাজার বন্ধ থাকায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে চরের বাসীন্দারা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোবাইল ব্যাংকিং পরিশেবার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে দেয়া ২৫০০ টাকার তালিকায় নাই দৌলতদিয়ার কুশাহাটার চরের কোন বাসিন্দা। অথচ মোবাইল ব্যাংকিং পরিবেশায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নে চুরান্তভাবে দুই হাজার জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
কুশাহাটা চরের বাসিন্দা সাহের ফকির, খয়ের ব্যাপারী, সোরাপ মন্ডলসহ অনেকেই জানান, এখন কোন কাজ কর্ম নাই। মাছ শিকার করে তাদের সংসার চলতো। এখন হাট বাজারে যেতে পারছেন না। সব কিছু বন্ধ থাকায় বিপদে পড়েছেন। করোনায় সাহায্য বলতে পেয়েছেন মাত্র ১০ কেজি চাল ও ৫০ টাকা। এ দিয়ে কি হয়, শুধু চাল হলে কি সংসার চলে? শুনছি প্রধানমন্ত্রী নাকি মোবাইলে টাকা দিচ্ছেন, কিন্তু কাদেরকে দিচ্ছেন? এই চরের তারা কেউ তো মোবাইলে টাকা পাচ্ছে না।
দৌলতদিয়া ১নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ কাশেম জানান, চাহিদা অনুযায়ী তার ওয়ার্ডে স্বল্প পরিবার এ সুবিধা পাচ্ছে। ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যাই ২ হাজার ৯০০ জন। মোবাইল পরিসেবার তালিকায় অন্তভূক্তি হয়েছে মাত্র ১০০ জন। ওয়ার্ডের মুল ভূখন্ডের অনেক কর্মহীনের তালিকা অন্তুভূক্তি করাতে পারেন নাই এবং কুশাহাটার কোন বাসিন্দা নাই এ তালিকায়। পরবর্তীতে সহযোগিতা আসলে তাদের দেয়া হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, মোবাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জন্য উপজেলার ৬ হাজার ৭০০ জনের তালিকা চুড়ান্ত হয়েছে। তবে অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা যারা পাচ্ছেন, তারা এ তালিকায় অন্তর্ভূক্তি হতে পারবে না। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটির মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে এ তালিকা করা হয়েছে। কুশাহাটার কোন বাসিন্দা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ তালিকায় নাই, এ বিষয়টি তার জানা নাই। আসলে তালিকা তো ওয়ার্ড কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে হয়েছে। বিষয়টি তিনি যাচাই বাছাই করে দেখবেন বলে জানান। তবে ওই চরের বেশ কিছু জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে ৮০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া চরের প্রত্যেক পরিবারকে ইতিমধ্যে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ ১২৫ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code