

সম্পাদকীয়: দেশ থেকে বিপুল হারে মেধা পাচার হওয়ার সংবাদ উদ্বেগজনক। জানা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্তত ৫৭টি দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এভাবে দেশ থেকে মেধা পাচার হওয়ায় জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি করা মেধাবীদের সেবায় অন্য একটি দেশ উন্নত হলেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ, যা মোটেই কাম্য নয়। অবশ্য শিক্ষক-গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন-উন্নত প্রযুক্তি ও পরিবেশে লেখাপড়া-গবেষণার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্ঞানভান্ডারের সঙ্গে পরিচিত হতে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে যাওয়াটা অপরাধ নয়; বরং জরুরি। তাদের মতে, চীন-ভারত প্রতি বছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েটকে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা-যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশে পাঠাচ্ছে। এজন্য তাদের বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাও রয়েছে। এভাবে যারা পড়তে যাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগ আবার ফিরে এসে নিজ দেশের সেবা করছেন; আর যারা ওইসব দেশে থেকে যাচ্ছেন এবং উচ্চপদে চাকরি করছেন, তাদেরও যথাযথ সুযোগ প্রদান সাপেক্ষে ফিরিয়ে এনে নিজের দেশ গড়ার কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তাহলে আমাদের মেধাবীদের বেলায় কেন এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না, এটাই প্রশ্ন।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিদেশে লেখাপড়া করতে যাওয়া সংক্রান্ত একটি চিত্র পাওয়া গেছে। ইউনেস্কো প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের ৪৯ হাজার ১৫১ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের ৫৭টি দেশে গেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই গেছেন সর্বাধিক ৮ হাজার ৬৬৫ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৫৪৮ জন। এছাড়াও প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন ইনস্টিটিউট কর্তৃক ‘ওপেন ডোরস রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ’ নামে যৌথভাবে প্রকাশিত ২০২১-২২ সালের প্রতিবেদন বলা হয়েছে-যুক্তরাষ্ট্রে চলতি শিক্ষাবর্ষে সারা বিশ্ব থেকে শিক্ষার্থী এসেছেন ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫১৯ জন, এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতাসহ বিকশিত হওয়ার অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবেই মূলত দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ উন্নত দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর মতো গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি, প্রযুক্তিগত সুবিধা, সামাজিক নিরাপত্তা, জীবনমানের উন্নয়ন, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে উৎসাহী হবেন, এতে কোনো সন্দেহে নেই।