

সম্পাদকীয়: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, বিশেষত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং ডলারের মূল্যমান বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় সব দেশেই দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে প্রশ্ন উঠেছে-দেশে দ্রব্যমূল্য যে হারে বেড়েছে, তা আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলোয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না। এ প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায় বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের আন্তর্জাতিক ও এশিয়ার দেশগুলোর নিত্যপণ্যের বাজারদর বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
এতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের চেয়ে বাংলাদেশে পণ্যের দাম বেশি হারে বেড়েছে। এমনকি মিয়ানমারের চেয়েও আমাদের দ্রব্যমূল্য বেড়েছে বেশি হারে। তবে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার কম। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, উল্লিখিত তিন মাসে ভারতে যেখানে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির হার ১৩ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে এ হার ৩২ শতাংশ। ভারতে গমের দাম বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, বাংলাদেশে তা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ, বাংলাদেশে বেড়েছে ২০ শতাংশ। ভারতে গণপরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ আর বাংলাদেশে ২২ শতাংশ। অর্থাৎ নিকটতম প্রতিবেশী দেশটিতে দ্রব্যমূল্য যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, বাংলাদেশে তা বেড়েছে সে তুলনায় অনেকটাই বেশি।