দেশে প্রথমবারের মতো লবণ-সহিষ্ণু ধানের জীবনরহস্য উন্মোচন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual3 Ad Code

কৃষি ডেস্কঃ 

দেশে প্রথমবারের মতো ধানের পূর্ণাঙ্গ জীনোম সিকোয়েন্স বা জীবনরহস্য ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন আবিষ্কার করা হয়েছে। লবণাক্ততা ও বন্যা সহিষ্ণু বিনাধান-২৩ এর উপর গবেষণা করে এ সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) একদল গবেষক।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিনার মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। এ সময় ধানের জীবন রহস্যের উন্মোচন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

বিনা মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে বাকৃবির গবেষক পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, বিনার প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী মানস কান্তি শাহা গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

সম্মেলনে ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, সাধারণত বিনা উদ্ভাবিত জাতগুলোতে বিভিন্ন রেডিয়েশন প্রয়োগের মাধ্যমে জাত উন্নয়ন করা হয়। তবে এই রেডিয়েশনের প্রভাবে জিনের কি ধরনের পরিবর্তন হয় তা আগে জানা সম্ভব হতো না। আমাদের এই উদ্ভাবনের ফলে এখন থেকে যেকোনো ধানের জাতের জিন পর্যায়ে কি ধরনের পরিবর্তন হয় তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

Manual5 Ad Code

গবেষণা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, বিনাধান-২৩ একটি লবণাক্ত ও বন্যা সহিষ্ণু ধানের জাত। ২০১৯ সালে বাকৃবি ও বিনার গবেষকবৃন্দের প্রচেষ্টায় বিনাধান-২৩ ও তা থেকে উৎপন্ন তিনটি মিউটেন্ট (রেডিয়েশন দ্বারা প্রভাবিত জাত) ধানের জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন করা হয়, যা বাংলাদেশে প্রথম। এই জিনোম সিকোয়েন্স উদ্ভাবনের ফলে দেশে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই ধানের জাত থেকে আমরা প্রতিকূল আবহাওয়া সহিষ্ণু ২৩টি জিন, উচ্চ ফলনশীল বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী ১৬টি জিন এবং চালের আকার-আকৃতির জন্য দায়ী চারটি জিন শনাক্ত করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে ধানের জাতের শনাক্তকৃত জিনগুলো পরবর্তীতে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীরা রেফারেন্স জিনোম হিসেবে ব্যবহার এবং ধানের উচ্চ ফলনশীল জাতে স্থানান্তর করতে পারবে।

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর অতিরিক্ত এই মানুষগুলোর খাদ্য চাহিদা মেটানো কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমেই কেবল সবার খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code